ডেন্টিস্ট থেকে এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট! বাংলার ভোটে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন যোগীরাজ্যের সেই ‘দাবাং’ অফিসার, কে এই অজয় পাল?

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের উত্তপ্ত আবহে বর্তমানে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মা। উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের ২০১১ ব্যাচের এই দুঁদে অফিসারকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো স্পর্শকাতর জেলায় পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন। ফলতায় তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক সংঘাত এবং দুই পক্ষের মধ্যেকার ‘সিংহাম’ বনাম ‘পুষ্পা’ তর্জা এখন সাধারণ মানুষের কাছে কৌতূহলের মূল বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
ডেন্টিস্ট থেকে এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট
পেশাগত জীবনে প্রথমে দন্ত চিকিৎসক থাকলেও অপরাধ দমনের নেশায় আইপিএস হওয়া অজয় পাল শর্মার ক্যারিয়ার কোনো ফিল্মি চিত্রনাট্যের চেয়ে কম নয়। উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারের অধীনে কর্মরত থাকাকালীন তাঁর ঝুলিতে জমা হয়েছে ১০০টিরও বেশি এনকাউন্টারের রেকর্ড। নয়ডা থেকে শুরু করে গাজিয়াবাদ— সর্বত্রই অপরাধীদের কাছে তিনি এক মূর্তিমান আতঙ্ক বা ‘দাবাং’ অফিসার হিসেবে পরিচিত। মূলত নির্বাচন চলাকালীন আইন-শৃঙ্খলা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেই কমিশন এই বিতর্কিত ও প্রভাবশালী অফিসারকে বাংলায় পাঠিয়েছে।
রাজনৈতিক সংঘাত ও প্রশাসনিক কড়াকড়ি
বাংলার মাটিতে পা রেখেই অজয় পাল শর্মা নিজের কড়া মেজাজের পরিচয় দিয়েছেন। ফলতার শাসক দলের প্রার্থীর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে সরাসরি ‘সতর্ক’ করা এবং তার প্রেক্ষিতে প্রার্থীর পক্ষ থেকে ‘ঝুঁকেগা নেহি’ হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও ঘোরালো করে তুলেছে। তৃণমূল শিবিরের অভিযোগ, তিনি কেন্দ্রীয় এজেন্সির মতো কাজ করছেন। অন্যদিকে, তাঁর এই কড়াকড়ির ফলে নির্বাচন কমিশন ভোট লুটেরাদের বিরুদ্ধে ‘অল-আউট ব্যাটিং’ শুরু করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। যার প্রভাবে ইতিমধ্যে বিপুল সংখ্যক গোলযোগকারীকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে।
এক ঝলকে
- উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের ২০১১ ব্যাচের আইপিএস অজয় পাল শর্মা বর্তমানে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক।
- তাঁর ক্যারিয়ারে ১০০টির বেশি এনকাউন্টার রয়েছে, যার জন্য তাঁকে ‘এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট’ বলা হয়।
- ফলতায় তৃণমূল প্রার্থীর সাথে তাঁর মুখোমুখি সংঘাতের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তজনা ছড়িয়েছে।
- ভোটের সময় শান্তি বজায় রাখতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে তাঁর জিরো টলারেন্স নীতি ইতিমধ্যে সাড়া ফেলেছে।