ইস্তাম্বুল থেকে দিল্লি, খাঁচায় দাউদের ঘনিষ্ঠ সেলিম দোলা! ৫০০০ কোটির মাদক সাম্রাজ্যের গোপন তথ্য কি এবার ফাঁস?

আন্তর্জাতিক ড্রাগ সিন্ডিকেটের অন্যতম পাণ্ডা এবং আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সেলিম দোলাকে শেষ পর্যন্ত ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে তুরস্ক। শনিবার ইস্তাম্বুল থেকে আটকের পর মঙ্গলবার দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে নিয়ে আসা হয়। ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি থাকা এই অপরাধীকে দেশে ফেরাতে গত এক বছর ধরে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছিল ভারত সরকার। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই সফল অভিযানে বড়সড় ধাক্কা খেল ডি-কো ম্পা নির আন্তর্জাতিক মাদক নেটওয়ার্ক।
বিশাল মাদক সাম্রাজ্য ও বিপুল সম্পত্তি
তদন্তকারী সংস্থাগুলোর মতে, সেলিম দোলা সংযুক্ত আরব আমিরশাহীসহ মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও ইউরোপ জুড়ে কয়েক হাজার কোটি টাকার সিন্থেটিক ড্রাগ সিন্ডিকেট পরিচালনা করত। বছরে প্রায় ৫০০০ কোটি টাকার মাদক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করা এই মাফিয়া গত দুই বছরে ব্যক্তিগতভাবে ১০০ কোটি টাকারও বেশি আয় করেছে। মুম্বই ও গুজরাটে হেরোইন, মেফেড্রোন এবং মেথামফেটামিনের মতো মারণ নেশার সামগ্রী সরবরাহে সে ছিল মূল হোতা। ইতিমধ্যে তার গ্যাংয়ের ২৫৬ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
প্রভাব ও আইনি পদক্ষেপ
সেলিম দোলার গ্রেফতারি ভারতের মাদক বিরোধী অভিযানে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে দুবাই থেকে তার ছেলে ও সহযোগীদের গ্রেফতার করা হলেও সিন্ডিকেটটি সক্রিয় ছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ধারণা, সেলিমকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে দাউদ ইব্রাহিমের ডি-কো ম্পা নির বর্তমান আর্থিক উৎস এবং আন্তর্জাতিক রুটগুলো সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। মাদক পাচারের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ সন্ত্রাসী কার্যকলাপে ব্যবহৃত হতো কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।
এক ঝলকে
- ইস্তাম্বুল থেকে প্রত্যার্পণের মাধ্যমে দাউদ ঘনিষ্ঠ সেলিম দোলাকে ভারতে আনা হয়েছে।
- তার বিরুদ্ধে বার্ষিক ৫০০০ কোটি টাকার আন্তর্জাতিক মাদক সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগ রয়েছে।
- মুম্বই ও গুজরাট পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে এই ড্রাগ মাফিয়াকে খুঁজছিল।
- পুলিশি অভিযানে ইতিমধ্যে ২৫৬ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।