ভোটের ২৪ ঘণ্টা আগে স্বস্তি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ভোটাধিকার ফিরে পেলেন দেড় হাজার মানুষ!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে ভোটাধিকার ফিরে পেলেন প্রায় দেড় সহস্রাধিক মানুষ। সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ মেনে প্রকাশিত অতিরিক্ত ভোটার তালিকায় এই ১৪৬৮ জন নাগরিকের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা মনোজ কুমার আগারওয়াল জানিয়েছেন, আপিলেট ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এই ভোটাররা বুধবার তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পাবেন।
আদালতের হস্তক্ষেপে মিলল সমাধান
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময় বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়লে বিষয়টি ভারতের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আদালতের নির্দেশে রাজ্যে ১৯টি আপিলেট ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়, যেখানে বাদ পড়া ভোটাররা তাদের দাবির সপক্ষে আবেদন করার সুযোগ পান। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নতুন যুক্ত হওয়া ভোটারদের অধিকাংশই কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের বাসিন্দা। বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় আপিল করার ক্ষেত্রে শহুরে সচেতনতা বেশি থাকায় এই অঞ্চলের মানুষ দ্রুত সাড়া পেয়েছেন।
খোদ নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নাম কর্তন
তালিকায় নাম ফেরার স্বস্তির মাঝেও উঠে এসেছে এক বিড়ম্বনার চিত্র। রাজ্যের অন্তত ৬৫ জন সরকারি কর্মচারী, যারা বর্তমানে ভোটগ্রহণের দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের নিজেদের নামই ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এদের মধ্যে অনেক প্রিসাইডিং অফিসার রয়েছেন যারা বছরের পর বছর সফলভাবে নির্বাচন পরিচালনা করেছেন। আইনি জটিলতা ও ‘যৌক্তিক অসঙ্গতির’ কারণ দেখিয়ে তাদের নাম বাদ দেওয়ায় ভোট পরিচালনার সময় তারা তীব্র মানসিক যন্ত্রণার কথা জানিয়েছেন।
গণতন্ত্রের জয় ও নাগরিক অধিকার
তালিকায় নাম ফেরানোর এই প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য ছিল সংবিধানের অলংকরণ শিল্পী নন্দলাল বসুর নাতি সুপ্রবুদ্ধ সেনের নাম অন্তর্ভুক্তি। প্রথম দফার ভোটে ঝামেলার পর আদালতের হস্তক্ষেপে শেষ মুহূর্তে তিনি ভোট দিতে পেরেছেন। তবে এখনো বহু মানুষ ডিজিটাল জটিলতা এবং আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত রয়েছেন বলে বিভিন্ন সামাজিক গবেষণা সংস্থা দাবি করেছে।
এক ঝলকে
- আপিলেট ট্রাইব্যুনালের রায়ে দ্বিতীয় দফার ঠিক আগে তালিকায় ফিরলেন ১৪৬৮ জন ভোটার।
- সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত ট্রাইব্যুনালে জমা পড়েছিল প্রায় ৩৪ লক্ষ আবেদন ও আপত্তি।
- ভোট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ৬৫ জন সরকারি কর্মচারী নিজেই ভোটাধিকার হারিয়েছেন।
- নতুন যুক্ত হওয়া ভোটারদের সিংহভাগই কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণ নির্বাচনী এলাকার।