অসাধ্য সাধন! টাইটানিয়াম পাতে জুড়ল চূর্ণ হওয়া বুক, জম্মুর সরকারি মেডিকেল কলেজে আধুনিক চিকিৎসার নজিরবিহীন সাফল্য

জম্মু ও কাশ্মীরের উধমপুর জেলায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল ২১ জনের। সেই একই দুর্ঘটনায় প্রায় পিষ্ট হয়ে যাওয়া এক ৪৭ বছর বয়সি প্রৌঢ়কে যমদুয়ার থেকে ফিরিয়ে আনলেন জম্মুর সরকারি মেডিকেল কলেজের (GMC) চিকিৎসকরা। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিস্ময় ‘চেস্ট রিকনস্ট্রাকশন’ বা বুকের পুনর্গঠন পদ্ধতির মাধ্যমে চিকিৎসকরা ওই ব্যক্তির চূর্ণবিচূর্ণ বুককে পুনরায় স্বাভাবিক কাঠামোয় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের চরম পরীক্ষা
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর ওই প্রৌঢ় যখন হাসপাতালে পৌঁছান, তখন তাঁর অবস্থা ছিল অত্যন্ত সংকটজনক। বুকের কেন্দ্রীয় হাড় বা ‘স্টার্নাম’ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল এবং দুই পাশের একাধিক পাঁজরের হাড় ভেঙে গুঁড়ো হয়ে গিয়েছিল। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই জটিল অবস্থাকে ‘ফ্লেল চেস্ট’ বলা হয়। রোগী যখন চিকিৎসকদের অধীনে আসেন, তখন তিনি গভীর শক-এ ছিলেন এবং তাঁর শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছিল। ফুসফুসের ভেতরে রক্ত ও বাতাস জমে যাওয়ায় প্রতি মুহূর্তে ছিল প্রাণের ঝুঁকি।
টাইটানিয়াম পাতের জাদুকরী স্পর্শ
প্রাথমিকভাবে রোগীকে ভেন্টিলেটরে রাখা হলেও তাঁর শ্বাসপ্রক্রিয়ার অস্বাভাবিকতা (প্যারাডক্সিক্যাল মুভমেন্ট) কাটছিল না। এরপরই কার্ডিওভাসকুলার অ্যান্ড থোরাসিক সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকরা টাইটানিয়াম পাত ব্যবহার করে বুক পুনর্গঠনের সাহসী সিদ্ধান্ত নেন। অত্যন্ত জটিল এই অস্ত্রোপচারের পর রোগীর রক্তচাপ ও অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। বর্তমানে তিনি আইসিইউ-তে পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এই সাফল্য ট্রমা কেয়ার বা দুর্ঘটনাজনিত চিকিৎসার ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক। সাধারণত বুকের হাড় এভাবে চূর্ণ হয়ে গেলে মৃত্যুর হার অনেক বেশি থাকে। কিন্তু অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগে আসাম্ভবকে সম্ভব করেছেন জম্মুর চিকিৎসকরা। এ রাজ্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের জটিল অস্ত্রোপচারের পরিকাঠামো এখন অনেক জায়গাতেই রয়েছে, যা আগামী দিনে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হওয়া রোগীদের জীবন বাঁচাতে বড় ভূমিকা পালন করবে।
এক ঝলকে
- উধমপুর বাস দুর্ঘটনায় ক্ষতবিক্ষত ৪৭ বছর বয়সি প্রৌঢ়কে জীবনদান করলেন জম্মুর চিকিৎসকরা।
- ‘চেস্ট রিকনস্ট্রাকশন’ পদ্ধতিতে টাইটানিয়াম পাত ব্যবহার করে গুঁড়ো হয়ে যাওয়া বুকের হাড় জোড়া লাগানো হয়েছে।
- রোগী ‘ফ্লেল চেস্ট’ ও ফুসফুসে রক্ত জমার মতো গুরুতর সমস্যায় ভুগছিলেন।
- অস্ত্রোপচারের পর রোগীর শারীরিক অবস্থার নাটকীয় উন্নতি হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে বিপদমুক্ত।