ভোট করাচ্ছেন অথচ দিতে পারবেন না নিজের ভোট! কমিশনের ‘তলবে’ দিশেহারা ৩৩ রেলকর্মী
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/08/01/election-commission-2025-08-01-14-25-26.jpg?w=1200&resize=1200,675&ssl=1)
রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটের ঠিক দুদিন আগে ৩৩ জন রেলকর্মীর ফোনে আসা একটি আকস্মিক বার্তা ঘিরে তীব্র বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। খড়গপুর রেল ডিভিশনের এই কর্মীদের সোমবার রাতে হোয়াটসঅ্যাপে জানানো হয় যে, তাঁদের নির্বাচনী ডিউটি পড়েছে। আগে কখনও নির্বাচনের কাজ না করা বা প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ না থাকা সত্ত্বেও মঙ্গলবার সকালেই তাঁদের চুঁচুড়া এইচআইটি কলেজের ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারে পৌঁছাতে হয়। সেখান থেকে ইভিএমসহ অন্যান্য নির্বাচনী সরঞ্জাম সংগ্রহ করলেও কাজের ধরণ সম্পর্কে তাঁরা অন্ধকারেই রয়েছেন।
প্রশিক্ষণহীনতা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ
হঠাৎ পাওয়া এই নির্দেশে কর্মীরা কর্মস্থলে যোগ দিলেও ভোট পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে তাঁদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রেলকর্মীদের দাবি, তাঁদের কোনো প্রথাগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি। ভোটগ্রহণের মতো স্পর্শকাতর প্রক্রিয়ায় কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই সরাসরি ইভিএমের দায়িত্ব দেওয়ায় সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। শেষ মুহূর্তে ডাকার কারণে তাঁদের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়েও কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
ভোটদান নিয়ে সংশয়
সবচেয়ে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে কর্মীদের নিজস্ব ভোটাধিকার নিয়ে। দ্বিতীয় দফার এই নির্বাচনে খোদ কর্মীদের অনেকেরই নিজস্ব এলাকায় ভোট রয়েছে। যেহেতু একদম শেষ মুহূর্তে তাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাই পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি তাঁরা। ডিউটির চাপে নিজেদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে কোনো সদুত্তর মেলেনি। এতে কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
হুগলি, হাওড়া ও কলকাতাসহ সাত জেলার ১৪২টি আসনে এই দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পর্যাপ্ত কর্মী সংকটের কারণেই হয়তো শেষ মুহূর্তে রেলকর্মীদের ডেকে পাঠানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তের ফলে ভোটপ্রক্রিয়ার গুণগত মান এবং কর্মীদের সাংবিধানিক অধিকার—উভয়ই এখন খাদের কিনারায়।
এক ঝলকে
- খড়গপুর ডিভিশনের ৩৩ জন রেলকর্মীকে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে হঠাৎ ভোটের ডিউটিতে ডাকা হয়েছে।
- কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা বা প্রশিক্ষণ ছাড়াই কর্মীদের ইভিএমসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
- শেষ মুহূর্তে ডিউটি পড়ায় পোস্টাল ব্যালট না পেয়ে নিজেদের ভোটাধিকার হারানো নিয়ে শঙ্কিত কর্মীরা।
- হুগলি ও হাওড়াসহ সাত জেলার গুরুত্বপূর্ণ ভোটগ্রহণের ঠিক আগে এই অব্যবস্থাপনা নজরে এসেছে।