অপারেশন ‘গ্লোবাল-হানিট’: ইন্টারপোলের জালে মোস্ট ওয়ান্টেড সেলিম ডোলা, ড্রাগ সাম্রাজ্যের পতন!

দীর্ঘ ২০ বছর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখে ধুলো দেওয়ার পর অবশেষে গ্রেফতার হলো আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী মোহাম্মদ সেলিম ডোলা। নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর (এনসিবি) ‘অপারেশন গ্লোবাল-হন্ট’-এর অধীনে তুরস্ক থেকে তাকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামামাত্রই তাকে হেফাজতে নেয় এনসিবির বিশেষ দল। ৫৯ বছর বয়সী এই মাদক সম্রাটের বিরুদ্ধে চলতি বছরের মার্চ মাসেই রেড কর্নার নোটিশ জারি করেছিল ইন্টারপুল।
তিন মহাদেশে বিস্তৃত ড্রাগ নেটওয়ার্ক
তদন্তকারী সংস্থাগুলোর মতে, মুম্বাইয়ের বাসিন্দা সেলিম ডোলা গত কয়েক বছরে এক বিশাল আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিল। তার এই মাদক সাম্রাজ্য মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। মূলত বিদেশ থেকে বসেই সে ভারতে মাদক সরবরাহ ও পুরো নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করত। মহারাষ্ট্র ও গুজরাটে উদ্ধার হওয়া কোটি কোটি টাকার হেরোইন, মেফেড্রোন এবং মেথামফেটামাইনের মতো ভয়ংকর মাদক চোরাচালানের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করেছে সে।
তদন্তে মোড় ও সম্ভাব্য প্রভাব
২০২৫ সালে দুবাই থেকে সেলিমের ছেলে তাহিল সেলিম ডোলাকে ভারতে বিতাড়িত করার পর থেকেই এই নেটওয়ার্কের ওপর নজরদারি জোরদার হয়। তুরস্ক ও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং ইন্টারপোলের সমন্বিত অভিযানে তাকে ধরা সম্ভব হয়েছে। সেলিমের এই গ্রেফতার আন্তর্জাতিক ড্রাগ সিন্ডিকেটের ভারতীয় যোগসূত্রগুলো ছিন্ন করার ক্ষেত্রে বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এনসিবির ধারণা, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে দেশের ভেতরে ছড়িয়ে থাকা মাদক নেটওয়ার্কের আরও বড় রাঘব বোয়ালদের নাম বেরিয়ে আসবে।
এক ঝলকে
- এনসিবির ‘অপারেশন গ্লোবাল-হন্ট’ অভিযানে তুরস্ক থেকে গ্রেফতার হয়েছে মোস্ট ওয়ান্টেড সেলিম ডোলা।
- ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা জুড়ে বিস্তৃত ছিল তার কয়েক হাজার কোটি টাকার ড্রাগ সাম্রাজ্য।
- গুজরাট ও মহারাষ্ট্রে বিভিন্ন সময়ে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ মাদক পাচারের মূল হোতা এই সেলিম।
- ইন্টারপোল ও তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় তাকে দিল্লিতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।