আকাশপথে ‘স্বার্ম অ্যাটাক’-এর আতঙ্ক! মার্কিন-ইজরায়েল ডিফেন্স সিস্টেম ভেঙে চুরমার করছে শয়ে শয়ে ইরানি ড্রোন

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় পাল্টে যাচ্ছে যুদ্ধের প্রথাগত ব্যাকরণ। সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোতে দেখা যাচ্ছে, আমেরিকার কয়েক কোটি ডলার মূল্যের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অত্যাধুনিক ড্রোনকে অনায়াসেই পরাস্ত করছে ইরানের তৈরি সস্তা ও সহজলভ্য ড্রোন। রণকৌশলের এই অভাবনীয় পরিবর্তন আধুনিক সামরিক বিশ্বের জন্য এক নতুন ধাঁধা তৈরি করেছে, যেখানে বিশাল বিনিয়োগের তুলনায় স্বল্প মূল্যের প্রযুক্তি অনেক বেশি কার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে।
ব্যয় ও কার্যকারিতার বিশাল ব্যবধান
একটি মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন নির্মাণে খরচ হয় প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার বা ২৫০ কোটি টাকার বেশি। অথচ ইরানের তৈরি একটি শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের দাম মাত্র ২০ থেকে ৩৫ হাজার ডলারের মধ্যে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ৩৯ দিনের ব্যবধানে আমেরিকা তাদের ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ রিপার ড্রোন হারিয়েছে, যার মোট বাজারমূল্য ৭২০ মিলিয়ন ডলারের বেশি। এই সস্তা ড্রোনগুলোকে ভূপাতিত করতে যখন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বা দামী ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ব্যবহার করা হচ্ছে, তখন প্রতিবারই ড্রোনটির মূল দামের চেয়ে ১০০ গুণ বেশি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে আমেরিকা ও ইসরায়েলকে।
ঝাঁক বেঁধে হামলার অভিনব কৌশল
ইরান মূলত ‘সোয়ার্ম অ্যাটাক’ বা ড্রোনের বিশাল বহর দিয়ে একসাথে আক্রমণ করার কৌশল বেছে নিয়েছে। শত শত ড্রোন যখন একসাথে আকাশসীমায় প্রবেশ করে, তখন রাডার ও এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমগুলো অতিরিক্ত চাপে অকার্যকর হয়ে পড়ে। এই ফাঁকেই উন্নত প্রতিরক্ষা বলয় ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে সস্তা প্রযুক্তি। ইউক্রেন যুদ্ধে এই মডেলের সফল প্রয়োগের পর ইরান এখন একে আরও উন্নত করে তুলেছে। ফলে ইসরায়েলের আইরন ডোম বা অ্যারো মিসাইল সিস্টেমের মতো হাই-টেক সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলোও এখন অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত চাপের মুখে পড়েছে।
ভবিষ্যৎ যুদ্ধের নতুন দিশা
এই সংঘাত বিশ্বজুড়ে সামরিক চিন্তাবিদদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে। এটি স্পষ্ট যে, ভবিষ্যতে যুদ্ধের জয়-পরাজয় কেবল ভারী অস্ত্রের ওপর নয়, বরং কম খরচে গণহারে উৎপাদনযোগ্য প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করবে। ইরানের এই কৌশল বিশ্বের সামরিক ভারসাম্য রক্ষায় বড়সড় পরিবর্তন এনেছে। এখন বড় বড় দেশগুলো লেজার প্রযুক্তি, এআই এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের দিকে ঝুঁকছে যাতে এই সস্তা ড্রোনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যায়।
এক ঝলকে
- আমেরিকার প্রতিটি এমকিউ-৯ ড্রোনের দাম প্রায় ২৫০ কোটি টাকা হলেও ইরানের শাহেদ ড্রোনের দাম মাত্র কয়েক লাখ টাকা।
- ড্রোন ভূপাতিত করার চেয়ে ড্রোনের উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় আমেরিকা ও ইসরায়েল বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।
- মাত্র ৩৯ দিনে আমেরিকা অন্তত ২৪টি অত্যাধুনিক রিপার ড্রোন হারিয়েছে।
- ইরানের ‘সোয়ার্ম অ্যাটাক’ বা দলবদ্ধ ড্রোন হামলা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত ও বিকল করে দিচ্ছে।