১২ লক্ষ রেশন কার্ড বাতিল, ঝাড়খণ্ডে নাগরিক অধিকার রক্ষায় এবার কড়া পদক্ষেপ হেমন্ত সোরেনের!

ঝাড়খণ্ডে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া শুরুর প্রাক্কালে প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে। সম্প্রতি বিহারে ৩৬ লক্ষ এবং ঝাড়খণ্ডে ১২ লক্ষ মানুষের রেশন কার্ড বাতিল হওয়ার ঘটনায় সিঁদুরে মেঘ দেখছে ক্ষমতাসীন ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম)। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লে সাধারণ মানুষ যে সমস্ত সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন, সেই আশঙ্কা থেকেই বুথ স্তরের কর্মীদের সংগঠিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। সরকারের লক্ষ্য, যাচাইকরণের নামে একজনও যোগ্য নাগরিক যেন তালিকা থেকে বাদ না পড়েন।
রেশন কার্ড বাতিলের হিড়িক ও বর্তমান পরিস্থিতি
রাজ্যে নতুন করে রেশন কার্ডের কেওয়াইসি (KYC) আপডেট ও নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা ৩০ জুনের মধ্যে শেষ করার সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ার শুরুতেই ব্যাপক হারে কার্ড বাতিলের অভিযোগ উঠেছে। শুধুমাত্র পোটকা জেলাতেই ৪৫ হাজার গ্রাহকের মধ্যে প্রায় ১১ হাজার ২২৭ জনের কার্ড বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যার মধ্যে ইতিমধ্যেই ৬৩০ জনের কার্ড বাতিল করা হয়েছে। জেএমএম-এর দাবি, এই প্রক্রিয়ার আড়ালে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রায় ৩০ লক্ষ রেশন কার্ড বাতিলের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক সংঘাত ও ভবিষ্যৎ কৌশল
কেন্দ্রের এই এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সরব হয়ে হেমন্ত সোরেন একে ‘জনবিরোধী’ পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছিলেন যেন জনগণনার আগে এই প্রক্রিয়া শুরু না হয়, কিন্তু তা কার্যকর না হওয়ায় এখন সাংগঠনিক লড়াইয়ের পথে হাঁটছে জেএমএম। ১২টি জেলার পদাধিকারীদের নিয়ে বৈঠক করে বুথ স্তরে সংগঠন মজবুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে ন্যায্য ভোটারদের নাগরিক অধিকার হরণ করা না যায়। মূলত বাংলার প্রতিরোধের ধাঁচেই ঝাড়খণ্ডে এই লড়াই চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজ্য সরকার।
এক ঝলকে
- ঝাড়খণ্ডে এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় সতর্ক প্রশাসন।
- রাজ্যে নতুন করে রেশন কার্ড যাচাইকরণের সময়সীমা ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
- একটি জেলাতেই ১১ হাজারেরও বেশি মানুষের কার্ড বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
- নাগরিক অধিকার রক্ষায় ১২ জেলার পদাধিকারীদের নিয়ে বুথ স্তরে সংগঠন শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন হেমন্ত সোরেন।