‘হিংসা দমনে কঠোর কমিশন’, হাই-রাইজ থেকে সন্দেশখালির নদীপথ—দ্বিতীয় দফার ভোটে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা!

‘হিংসা দমনে কঠোর কমিশন’, হাই-রাইজ থেকে সন্দেশখালির নদীপথ—দ্বিতীয় দফার ভোটে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা!

পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। ভোটগ্রহণের আগের দিন থেকেই ভোটকর্মীরা নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির মতো নদীবেষ্টিত দুর্গম এলাকাগুলোতে ভোটকর্মীদের নৌকায় করে যাতায়াত করতে দেখা গেছে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, প্রতিটি বুথে ভোটারদের নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কমিশন বদ্ধপরিকর। যেকোনো ধরনের হিংসা মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

নিরাপত্তা ও বুথের আধুনিক ব্যবস্থা

অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে প্রতিটি বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। জেলা শাসক শ্বেতা আগরওয়ালের দেওয়া তথ্যমতে, ১৬টি বিধানসভা কেন্দ্রের ৪,৬৬০টি বুথেই প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। তীব্র গরমের হাত থেকে ভোটারদের বাঁচাতে বুথগুলোতে ছাউনির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি, আকাশছোঁয়া ভবনগুলোকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে বিশেষ নজরদারির পরিকল্পনা নিয়েছে কমিশন। সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে সিআরপিএফ-এর পক্ষ থেকে ‘অপারেশনস ট্রাস্ট’-এর আওতায় রুট মার্চ ও স্থানীয়দের সাথে মতবিনিময় চলছে।

নজরদারি ও ট্র্যাফিক বিধিনিষেধ

ভোটের আগে শহরজুড়ে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ। সম্প্রতি সরশুনা এলাকায় নাকা চেকিংয়ের সময় চার লক্ষ টাকা বেহিসেবি নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ভোটকর্মী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর যাতায়াত সুগম করতে কলকাতা পুলিশ ২৮ ও ২৯ এপ্রিল এবং ৪ মে যান চলাচলে বিশেষ বিধিনিষেধ জারি করেছে। ডায়মন্ড হারবার রোড ও স্ট্র্যান্ড রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলোতে পণ্যবাহী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে ভোটার ছাড়া অন্য কারো প্রবেশ এবং বুথের ভেতরে মোবাইল ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

২৯ এপ্রিল হতে যাওয়া এই নির্বাচনে প্রথম দফার উচ্চ ভোটদানের হার বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো ভোটারদের ভয়মুক্ত পরিবেশে বুথমুখী করা এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়িয়ে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা।

এক ঝলকে

  • দ্বিতীয় দফার ভোট সামনে রেখে সন্দেশখালি ও নদীবেষ্টিত বুথগুলোতে পৌঁছালেন ভোটকর্মীরা।
  • নিরাপত্তার খাতিরে ৪,৬৬০টি বুথের ভেতরে ও বাইরে সিসিটিভি নজরদারির ব্যবস্থা।
  • অবৈধ লেনদেন রুখতে পুলিশের তল্লাশিতে চার লক্ষ টাকা নগদ অর্থ বাজেয়াপ্ত।
  • যানজট ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে ট্র্যাফিক রুট ডাইভারশন জারি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *