গণনাকেন্দ্রে ‘অস্থায়ী’ কর্মী নিষিদ্ধ! স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কড়া নির্দেশ কমিশনের

গণনাকেন্দ্রে ‘অস্থায়ী’ কর্মী নিষিদ্ধ! স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কড়া নির্দেশ কমিশনের

আগামী ৪ মে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের বহু প্রতীক্ষিত ফলাফল ঘোষণা। গণনার ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করল ভারতের নির্বাচন কমিশন। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, গণনাকেন্দ্রের ভেতরে কোনও অবস্থাতেই কোনও অস্থায়ী বা চুক্তিভিত্তিক (Contractual) কর্মীকে নিয়োগ করা যাবে না।

কমিশনের কড়া বার্তা

শনিবার জারি করা এই নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, গণনাকেন্দ্রের মূল কাজের সঙ্গে যুক্ত কোনও টেবিলে বা চত্বরে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের উপস্থিতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সাধারণত ভোট মিটে যাওয়ার পর ইভিএম (EVM) বক্স সিল করা বা সলিড প্যাকিং করার কাজে অনেক সময় অস্থায়ী কর্মীদের সহায়তা নেওয়া হত। কিন্তু এবার সেই কাজ থেকেও তাঁদের বিরত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রতিফলন

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, শীর্ষ আদালতের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ এবং নির্দেশ মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভোটগণনার প্রক্রিয়ায় যাতে বিন্দুমাত্র অস্বচ্ছতা বা কারচুপির সুযোগ না থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। দুই মেদিনীপুরই রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে পরিচিত, তাই সেখানে কোনওরকম ঝুঁকি নিতে নারাজ কমিশন।

কারা থাকবেন গণনার দায়িত্বে?

কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী:

  • কেবলমাত্র কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের স্থায়ী কর্মীরাই গণনার কাজে অংশ নিতে পারবেন।
  • ইভিএম সিল করা থেকে শুরু করে তথ্য নথিভুক্ত করার প্রতিটি ধাপে স্থায়ী সরকারি আধিকারিকদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।
  • র‍্যান্ডমাইজেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাঁদের নাম চূড়ান্ত হয়েছে, কেবল তাঁরাই বৈধ পরিচয়পত্র নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন।

ফল ঘোষণার আগে দুই মেদিনীপুরের জেলা প্রশাসনকে এই নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করার কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। মেদিনীপুরের মতো হাই-প্রোফাইল এলাকায় গণনার স্বচ্ছতা নিয়ে যাতে বিরোধীরা কোনও প্রশ্ন তুলতে না পারে, তার জন্যই কমিশনের এই ‘বজ্রআঁটুনি’ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *