ইভিএম ‘পাহারায়’ এবার পদ্ম-মহিলারা! গণনার আগে স্ট্রং রুমের সুরক্ষায় বিজেপির বড় চাল

আগামীকাল ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের হাইভোল্টেজ ফলাফল। তার ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে রাজ্যের স্ট্রং রুমগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে স্নায়ুর লড়াই তুঙ্গে। ইভিএম কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে এর আগে শাসক দল তৃণমূল সরব হলেও, এবার পাল্টা প্রতিরোধে নামল বিজেপি। রবিবার সকাল থেকেই রাজ্যের সমস্ত স্ট্রং রুমের সামনে ‘পাহারা’ দিতে বসেছেন বিজেপির মহিলা কর্মীরা।
পদ্মশিবিরের নয়া রণকৌশল
বিজেপি সূত্রের খবর, সোমবার সকালে গণনাকেন্দ্রে দলের কাউন্টিং এজেন্ট এবং প্রার্থীরা পৌঁছানোর আগে পর্যন্ত স্ট্রং রুমের বাইরে অতন্দ্র প্রহরীর মতো মোতায়েন থাকবেন দলের মহিলা মোর্চার সদস্যরা। রবিবার সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা এবং মেদিনীপুরের স্ট্রং রুমগুলোর সামনে জমায়েত শুরু করেছেন তাঁরা। পদ্মশিবিরের এই ‘মহিলা বাহিনী’ মোতায়েনের কৌশলকে রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন এই সতর্কতা?
বিগত কয়েক দিন ধরেই শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষই ইভিএম বদলে দেওয়া বা কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছিল। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্ট্রং রুম পরিদর্শন করে কর্মীদের সতর্ক থাকতে বলেছেন। পাল্টা চাপে রাখতে এবার বিজেপিও সরাসরি ময়দানে নামল। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশ, কোনও অবস্থাতেই যাতে স্ট্রং রুমের ধারেকাছে কোনও সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা সিভিক ভলান্টিয়াররা পৌঁছাতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। সোমবার সকাল ৮টায় গণনা শুরু না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থান চলবে।
চাপানউতোর তুঙ্গে
তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিজেপির এই পদক্ষেপকে ‘নজর ঘোরানোর কৌশল’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। তবে বিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাঁরা কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর ভরসা রাখলেও স্থানীয় প্রশাসনের গতিবিধি নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান। তাই নিজেদের নজরদারি আরও জোরদার করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য জুড়ে সব কটি স্ট্রং রুমকে ঘিরে এখন একদিকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারা, অন্যদিকে দুই প্রধান শিবিরের কর্মীদের সজাগ দৃষ্টি—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি কার্যত যুদ্ধের আগের নিস্তব্ধতার মতো।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।