২১ মে গোটা ফলতায় পুনর্নির্বাচন! ফলপ্রকাশের ঠিক আগেই কমিশনের নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে সবথেকে বড় খবর! ভোটের দিন দফায় দফায় অশান্তি এবং ইভিএম কারচুপির ভুরি ভুরি অভিযোগের জেরে গোটা ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে ফের নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। শনিবার রাতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, আগামী ২১ মে ফলতার ২৮৫টি বুথেই নতুন করে ভোটগ্রহণ করা হবে।
কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত?
গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পরিস্থিতি ছিল চরম উত্তপ্ত। বিশেষ করে ইভিএম-এর বোতামে কালো টেপ লাগানো এবং সুগন্ধি ব্যবহারের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার মতো ‘নজিরবিহীন’ কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল। এছাড়া ভোটারদের হুমকি দেওয়া এবং বুথ দখলের একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছিল কমিশনের দপ্তরে। বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত এবং জেলা নির্বাচন আধিকারিকের রিপোর্টের ভিত্তিতেই কমিশন এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, ওই দিনের ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছিল।
স্থগিত ফলতার ফলাফল
কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী ৪ মে রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯৩টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে। স্থগিত থাকবে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ফলাফল। এই কেন্দ্রে ২১ মে পুনর্নির্বাচনের পর ভোটগণনা হবে ২৪ মে। অর্থাৎ, গোটা রাজ্যের সরকার গঠনের ছবি পরিষ্কার হয়ে গেলেও ফলতার ভাগ্য ঝুলে থাকবে আরও তিন সপ্তাহ।
কড়া নিরাপত্তায় প্রস্তুতির নির্দেশ
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, ২১ তারিখের ভোটে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য ফলতায় ব্যাপক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রতিটি বুথে থাকবে সিসিটিভি নজরদারি এবং মাইক্রো-অবজারভার। ইতিমধ্যেই ফলতায় ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান ঘনিষ্ঠ ৩ কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুনর্নির্বাচনের দিন ওই এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় নিশ্চিত করতে কোমর বাঁধছে কমিশন।
এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই বিধানসভা আসনে নতুন করে লড়াই দুই প্রধান শিবিরের কাছেই এক বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।