ভোটের মুখে উত্তপ্ত ফলতা! ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার ৩ তৃণমূল কর্মী

ভোটের মুখে উত্তপ্ত ফলতা! ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার ৩ তৃণমূল কর্মী

ভোট মিটলেও অশান্তির আগুন নেভেনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায়। ভোটারদের প্রাণে মারার হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার করা হলেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান ঘনিষ্ঠ তিন কর্মী। ধৃতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অন্য দলকে ভোট দেওয়ার অপরাধে তাঁরা ফলতার হাসিমপুর (হাসিমনগর) গ্রামের বাসিন্দাদের হুমকি দিচ্ছিলেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও হুমকি

স্থানীয় সূত্রে খবর, ফলতার হাসিমপুর গ্রামের বেশ কিছু বাসিন্দা তৃণমূলের বদলে অন্য রাজনৈতিক দলকে (বিজেপি) ভোট দিয়েছেন—এই সন্দেহে তাঁদের ওপর চড়াও হন স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েত প্রধান সুজাউদ্দিন শেখ এবং ইসরাফিল চকদারের অনুগামীরা। অভিযোগ, ওই দুই নেতার উপস্থিতিতেই তৃণমূল কর্মীরা বাসিন্দাদের রীতিমতো ‘প্রাণে মারার’ হুমকি দেন। গণনার পর ফল বেরোলে দেখে নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয় বলে দাবি গ্রামবাসীদের।

মহিলাদের ব্যাপক বিক্ষোভ

তৃণমূলের এই হুমকির প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে শনিবার সকাল থেকেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় হাসিমপুর। মূলত গ্রামের মহিলারাই লাঠি-ঝাঁটা নিয়ে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘক্ষণ রাস্তা অবরোধ করে চলে বিক্ষোভ। বিক্ষোভকারী মহিলাদের দাবি ছিল, “ভোট দেওয়া আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার, তার জন্য কেন আমাদের প্রাণনাশের হুমকি শুনতে হবে?”

পুলিশি পদক্ষেপ ও গ্রেফতারি

পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় পৌঁছায় ফলতা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের আশ্বাসের পর বিক্ষোভ কিছুটা স্তিমিত হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, গ্রামবাসীদের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়। তদন্তে নেমে ভোটারদের হুমকি দেওয়ার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়ে জাহাঙ্গির খান ঘনিষ্ঠ তিন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পঞ্চায়েত প্রধান সুজাউদ্দিন শেখ এবং ইসরাফিল চকদারের ভূমিকাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে তৃণমূল প্রার্থীর শিবিরের পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন এবং বিজেপির ‘সাজানো নাটক’ বলে দাবি করা হয়েছে। ৪ মে ফলাফল ঘোষণার আগে ফলতায় এই গ্রেফতারির ঘটনা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *