ধর্মনগরে বিপুল ব্যবধানে ফুটল পদ্ম, উপনির্বাচনে ধরাশায়ী বাম-কংগ্রেস
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/05/04/jahar-chakraborty-2026-05-04-13-14-26.jpg?w=640&resize=640,360&ssl=1)
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক হাওয়ার সমান্তরালে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্য ত্রিপুরাতেও অব্যাহত রইল গেরুয়া ঝড়। উত্তর ত্রিপুরা জেলার ধর্মনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিজেপির জহর চক্রবর্তী তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাম প্রার্থীকে ১৮ হাজার ২৯০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। এই জয়কে ত্রিপুরার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শাসক দলের জনভিত্তি আরও মজবুত হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভোটের সমীকরণ ও জয়ী প্রার্থীর আধিপত্য
চতুর্থ দফার গণনা শেষে দেখা গেছে, বিজেপি প্রার্থী জহর চক্রবর্তী পেয়েছেন মোট ২৪,২৯১টি ভোট। শতাংশের হিসেবে যা মোট প্রদত্ত ভোটের ৬৫.১৩ শতাংশ। অন্যদিকে, সিপিআইএম প্রার্থী অমিতাভ দত্ত ৬,০০১ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে এবং জাতীয় কংগ্রেসের চয়ন ভট্টাচার্য ৫,৯৩৬ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। বিরোধী দুই দলের প্রাপ্ত ভোট একত্রে যোগ করলেও তা বিজেপির প্রাপ্ত ভোটের অর্ধেকের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি। এছাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে নোটায় (NOTA) ভোট পড়েছে ৪৪৪টি।
শূন্যস্থান পূরণে নতুন প্রতিনিধি
ধর্মনগর বিধানসভা আসনের দীর্ঘদিনের বিধায়ক তথা ত্রিপুরা বিধানসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ বিশ্ববন্ধু সেনের প্রয়াণে এই আসনটি শূন্য হয়েছিল। দীর্ঘ পাঁচ মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ডিসেম্বরে বেঙ্গালুরুতে তাঁর মৃত্যু হয়। চারবারের বিধায়কের মৃত্যুতে ধর্মনগর রাজনৈতিকভাবে অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছিল, যার ফলে এই উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়। জহর চক্রবর্তীর এই বিশাল জয় প্রয়াত নেতার উত্তরসূরি হিসেবে তাঁর প্রতি জনগণের আস্থার প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ও বিরোধীদের নীরবতা
বিপুল জয়ের পর ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা ধর্মনগরবাসীকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, সাধারণ মানুষের এই অকুণ্ঠ সমর্থন উন্নয়নের প্রতি দায়বদ্ধতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শান্তি ও প্রগতির ধারা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে উপনির্বাচনের এই ফলাফল সামনে আসার পর বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মূলত ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা থাকলেও ফলাফলে বিজেপির একচ্ছত্র আধিপত্যই স্পষ্ট হয়েছে।