বাংলায় গেরুয়া সুনামি, গদি হারালেন তৃণমূলের একঝাঁক হেভিওয়েট মন্ত্রী
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/05/04/tmc-2026-05-04-16-58-41.jpg?w=640&resize=640,360&ssl=1)
রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে কার্যত এক অভূতপূর্ব বদল ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। সোমবার সকাল থেকে ব্যালট বক্স ও ইভিএম খোলার পর থেকেই যে ট্রেন্ড দেখা গিয়েছিল, বেলা বাড়তেই তা স্পষ্ট ঝড়ে পরিণত হয়। ২০০-এর বেশি আসন নিয়ে বাংলায় সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। এই প্রবল ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক দুর্ভেদ্য দুর্গ। সবচেয়ে বড় চমক দেখা গিয়েছে রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রিসভার হেভিওয়েট সদস্যদের পরাজয়ে। খাস কলকাতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সৈনিকরা নিজেদের গড় রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
ধরাশায়ী অরূপ থেকে ব্রাত্য, পতনের তালিকায় দীর্ঘ নাম
তৃণমূলের দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত টালিগঞ্জ এবং শ্যামপুকুরে পদ্ম ফুটেছে। টালিগঞ্জে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে ৬ হাজারেরও বেশি ভোটে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন বিজেপির পাপিয়া দে অধিকারী। উত্তর কলকাতায় রাজ্যের নারী ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা পরাজিত হয়েছেন পূর্ণিমা চক্রবর্তীর কাছে। অন্যদিকে, রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু দমদম কেন্দ্রে ২৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছেন। হেভিওয়েট মন্ত্রীদের এই হার ঘাসফুল শিবিরের জন্য বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জেলায় জেলায় বিপর্যস্ত শাসকদলের মন্ত্রীরা
পরাজয়ের এই ধারা শুধু কলকাতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি, ছড়িয়ে পড়েছে জেলাতেও। উত্তরবঙ্গে উদয়ন গুহ দিনহাটায় পরাজিত হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী অজয় রায়ের কাছে। বিধাননগরের দাপুটে নেতা সুজিত বসু ৩৭ হাজারের বেশি ভোটে হেরে গিয়েছেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের কাছে। সিঙ্গুরে বেচারাম মান্না, চন্দননগরে ইন্দ্রনীল সেন এবং সবংয়ে বর্ষীয়ান নেতা মানসরঞ্জন ভুঁইয়া—সকলেই বিজেপির কাছে পরাজিত হয়েছেন। এমনকি আসানসোল উত্তরে মলয় ঘটকের মতো প্রভাবশালী মন্ত্রীও নিজের আসন ধরে রাখতে পারেননি।
তৃণমূলের এই বিপর্যয়ের নেপথ্যে মূলত বিরোধী ভোট মেরুকরণ এবং সরকারবিরোধী হাওয়াকেই প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। হেভিওয়েটদের এই পরাজয় রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে। সরকার গঠনের পথে থাকা বিজেপি এই জয়ের মাধ্যমে বাংলায় এক নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা করতে চলেছে, যেখানে তৃণমূলের পুরনো কেল্লাগুলো এখন গেরুয়া শিবিরের দখলে।