পরাজয় ভুলে দিল্লির লক্ষ্যে মমতা, ‘ফ্রি বার্ড’ হয়ে ইন্ডিয়া জোট গোছানোর বার্তা

বাংলায় প্রত্যাশিত ফল না মিললেও দমে যেতে রাজি নন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বরং প্রশাসনিক দায়িত্বের বেড়াজাল থেকে মুক্ত হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে বড় ভূমিকার ইঙ্গিত দিলেন তিনি। মঙ্গলবার কালীঘাটে পরাজয় পরবর্তী প্রথম সংবাদ সম্মেলনে মমতা সাফ জানিয়ে দিলেন, এখন তিনি ‘ফ্রি বার্ড’ বা মুক্ত বিহঙ্গ। মুখ্যমন্ত্রী পদের ব্যাগেজ ঝেড়ে ফেলে এবার তাঁর মূল লক্ষ্য হবে দিল্লির মসনদ থেকে বিজেপিকে হঠাতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটকে শক্তিশালী করা।
বিরাজমান দিল্লি কানেকশন ও বিরোধী সংহতি
ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই জাতীয় রাজনীতির হেভিওয়েট নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী থেকে শুরু করে অরবিন্দ কেজরিওয়াল, হেমন্ত সোরেন এবং তেজস্বী যাদবদের মতো বিরোধী শিবিরের প্রায় সব শীর্ষ নেতাই তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন। বাংলার নির্বাচনে ধাক্কা খেলেও সর্বভারতীয় স্তরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা যে ম্লান হয়নি, এই ফোনালাপ তারই প্রমাণ। তৃণমূল নেত্রীর দাবি, তিনি এখন একজন সাধারণ কর্মীর মতো জোটের জন্য কাজ করবেন, যাতে চব্বিশের লড়াইয়ে মোদী বিরোধী মঞ্চ আরও সংহত হয়।
ভোট পরবর্তী কৌশল ও অভিযোগের পাহাড়
নির্বাচনী পরাজয়ের নেপথ্যে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতিসক্রিয়তা এবং নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণকে কাঠগড়ায় তুলেছেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, দিল্লির নির্দেশে কাউন্টিং সেন্টারগুলো ‘ক্যাপচার’ করা হয়েছিল এবং গণতন্ত্রকে সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, তৃণমূল নেত্রীর এই সুরের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন রাহুল গান্ধীও। কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও মনে করছে বাংলা ও আসামে ভোট লুটের ঘটনা ঘটেছে।
সম্ভাব্য প্রভাব ও ভবিষ্যৎ গতিপথ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘ফ্রি বার্ড’ অবতার জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। প্রশাসনিক কাজ থেকে মুক্তি পাওয়ায় তিনি এখন সারা দেশে জোটের হয়ে প্রচার ও সমন্বয় সাধনে বেশি সময় দিতে পারবেন। এর ফলে ইন্ডিয়া জোটের অন্দরে তৃণমূলের দর কষাকষির ক্ষমতা যেমন বাড়বে, তেমনই বিজেপি বিরোধী আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে নিজেকে নতুন করে মেলে ধরার সুযোগ পাবেন তিনি। বাংলার হারকে শক্তিতে রূপান্তর করে দিল্লির চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করাই এখন মমতার প্রধান রাজনৈতিক কৌশল।