হার মানতে নারাজ মমতা, গণনায় কারচুপির অভিযোগে ইস্তফা দিতে অস্বীকৃতি

হার মানতে নারাজ মমতা, গণনায় কারচুপির অভিযোগে ইস্তফা দিতে অস্বীকৃতি

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দুই শতাধিক আসন নিয়ে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটিয়েছে বিজেপি। তবে এই ফলকে স্বাভাবিক পরাজয় হিসেবে মেনে নিতে নারাজ বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিকেলে কালীঘাটের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পরাজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি পদত্যাগ করবেন না। তৃণমূলনেত্রীর দাবি, এই ফলাফলের নেপথ্যে রয়েছে সুপরিকল্পিত ‘গণনা কারচুপি’।

ভোট পরবর্তী বিস্ফোরক অভিযোগ

নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, নির্বাচনে গণতান্ত্রিক উপায়ে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়নি। তার দাবি, গণনাকেন্দ্রে তৃণমূলের এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ ‘ফর্ম ১৭সি’ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “বিজেপির নির্দেশে কমিশন কাজ করেছে।” তার মতে, ভোটের ময়দানে তৃণমূল হারেনি, বরং গণনার টেবিলে ‘খেলা’ করে তাদের হারানো হয়েছে।

রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই নজিরবিহীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সাধারণত নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করেন, কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আইনি লড়াই বা পুনর্গণনার ইঙ্গিত দিয়ে চেয়ার ছাড়তে অনীহা প্রকাশ করেছেন। তার এই অবস্থান একদিকে যেমন তৃণমূল কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখার কৌশল হতে পারে, অন্যদিকে এটি আইনি জটিলতা এবং সাংবিধানিক সংকটের পথও প্রশস্ত করতে পারে।

বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় সরকার গঠনের দাবি জানানো এখন সময়ের অপেক্ষা। তবে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর এমন কড়া অবস্থানের ফলে আগামী দিনগুলোতে রাজপথে ও আদালতে সংঘাতের আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠছে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন কমিশন ও রাজভবন এই অচলাবস্থা নিরসনে কী ভূমিকা পালন করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *