মাস্টার প্ল্যানেও কাজ হলো না, ঘাটালে তৃণমূলের দুর্গে পদ্ম-ঝড়

মাস্টার প্ল্যানেও কাজ হলো না, ঘাটালে তৃণমূলের দুর্গে পদ্ম-ঝড়

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড়সড় পরিবর্তনের ঢেউয়ে এবার ধূলিসাৎ হয়ে গেল তৃণমূলের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি ঘাটাল। অভিনেতা-সাংসদ দেবের গ্ল্যামার কিংবা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’-এর প্রতিশ্রুতি—কোনো কিছুই এবার এই জনপদে ঘাসফুল ফোটাতে পারল না। কেশপুর বাদে লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বাকি ছয়টি বিধানসভাতেই শোচনীয় পরাজয় বরণ করতে হয়েছে সদ্য প্রাক্তন শাসক দলকে।

২০২১ সালের নির্বাচনেও ঘাটালে তৃণমূলের একচেটিয়া আধিপত্য ছিল। সেবার সাতটির মধ্যে ছয়টি আসনেই জিতেছিল তারা। কিন্তু ২০২৬-এর নির্বাচনে ছবিটা পুরোপুরি উল্টে গেছে। পাঁশকুড়া পশ্চিম, সবং, পিংলা, ডেবরা, দাসপুর এবং ঘাটাল—এই ছয়টি আসনেই জয়ী হয়েছে বিজেপি। বিশেষ করে ডেবরা বা সবং-এর মতো নিশ্চিত আসনগুলোতে তৃণমূলের পরাজয় রাজনৈতিক মহলে বিস্ময় তৈরি করেছে। একমাত্র কেশপুর আসনটি কোনোমতে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

প্রতিশ্রুতির ব্যর্থতা ও বঞ্চনার সমীকরণ

ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে কেন্দ্র-রাজ্য চাপানউতোর চলেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার দিল্লির বঞ্চনার অভিযোগ তুলে ঘোষণা করেছিলেন যে রাজ্য সরকার নিজের টাকাতেই এই কাজ করবে। সাংসদ দেবও আবেগপ্রবণ হয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কাজ না হলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। কিন্তু বছরের পর বছর বন্যার জলে ডুবে থাকা মানুষ এবার আর নিছক কথায় ভরসা রাখতে পারেনি।

বিপরীতে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ঝোড়ো প্রচার ঘাটালে বড় প্রভাব ফেলেছে। তিনি দাবি করেছিলেন যে, নরেন্দ্র মোদী এই প্রকল্পের জন্য দেড় হাজার কোটি টাকা পাঠিয়েছিলেন, যা তৃণমূল সরকার আটকে রেখেছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাত্র এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার যে ‘গ্যারান্টি’ তিনি দিয়েছিলেন, ঘাটালবাসী সম্ভবত তাতেই সিলমোহর দিয়েছেন।

তারকা চমকের চেয়ে যন্ত্রণাই বড় ফ্যাক্টর

ঘাটালে এবারের ভোটের ফলাফল প্রমাণ করে দিল, সাধারণ মানুষের কাছে জীবন-জীবিকা আর ঘরের জমা জলের যন্ত্রণা তারকা চমকের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় ভোটারদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা আর বন্যার অভিশাপ থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা শেষ পর্যন্ত ভোটবাক্সে প্রতিফলিত হয়েছে। গেরুয়া স্রোতে গা ভাসিয়ে ঘাটালবাসী এখন নতুন সরকারের দিকে তাকিয়ে, যাতে তাঁদের দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান ঘটে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *