সময়ের আগেই কি কড়া নাড়ছে বর্ষা, স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে হাওয়া অফিস

ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে মে মাসে আবহাওয়া কিছুটা ঠান্ডা থাকলেও দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর আগমনের পদধ্বনি ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে নির্ধারিত সময়েই অর্থাৎ জুনের প্রথম সপ্তাহে কেরল উপকূলে বর্ষা প্রবেশ করতে পারে। ইতিমধ্যেই তামিলনাড়ু, কেরল এবং আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মূলত বর্ষা শুরুর প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়।
অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বর্ষার বিশেষ যোগসূত্র
ভারতীয় আবহাওয়াবিদদের মতে, ভারতের বর্ষার সাথে অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়ার এক গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ায় বর্ষাকাল আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে, যা ভারতের জন্য ইতিবাচক সংকেত। নিরক্ষরেখা বরাবর যে মেঘ ও বৃষ্টির বলয়টি দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থান করছিল, সেটি এখন উত্তর দিকে ভারতের দিকে সরতে শুরু করেছে। এই অদৃশ্য বলয়টি বর্তমানে মালদ্বীপের কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং দ্রুত শ্রীলঙ্কা ও আন্দামান-নিকোবরের দিকে এগোচ্ছে।
কৃষিকাজ ও জনজীবনে সম্ভাব্য প্রভাব
মৌসুমী বায়ুর এই অগ্রগতির ফলে আগামী সাত দিনে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোতে বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়বে। উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্ব ভারতেও আবহাওয়ার অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা ঋতু পরিবর্তনের ইঙ্গিতবাহী। সঠিক সময়ে বা সময়ের কিছুটা আগে বর্ষার প্রবেশ ঘটলে তা দেশের কৃষি অর্থনীতির জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে খরিফ শস্যের চাষ এবং গ্রীষ্মের দাবদাহ থেকে সাধারণ মানুষের মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি এখন শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা।
এক ঝলকে
- জুনের প্রথম সপ্তাহে কেরল উপকূলে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে।
- অস্ট্রেলিয়ার বর্ষা মরসুম শেষ হওয়ায় ভারতের দিকে বৃষ্টির বলয় সরে আসার পথ প্রশস্ত হয়েছে।
- বর্তমানে মেঘপুঞ্জ মালদ্বীপের কাছে অবস্থান করছে, যা দ্রুত আন্দামানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
- আগামী এক সপ্তাহে কেরল, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরিতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমডি।