‘দৃষ্টিহীনরা কীভাবে সামলাবেন ভোটের দায়িত্ব?’ প্রশ্ন তুলে কমিশনের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ কলকাতা উচ্চ আদালত

নির্বাচনী ডিউটিতে যোগ না দেওয়ায় দৃষ্টিহীন শিক্ষকদের শোকজ নোটিশ পাঠাল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের এই সংবেদনহীন সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, এই ধরনের বিষয়গুলোকে অবশ্যই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিবেচনা করা উচিত। বিশেষ সক্ষম ব্যক্তিদের ওপর এমন দায়িত্ব চাপানো এবং পরবর্তীতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়াকে অনভিপ্রেত বলে উল্লেখ করেছে আদালত।
আইনি লড়াই ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
‘অল বেঙ্গল ব্লাইন্ড টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন’ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে জানায়, নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী দৃষ্টিহীন শিক্ষকরা কখনোই প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। তা সত্ত্বেও গত বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় দুই হাজার দৃষ্টিহীন শিক্ষককে পোলিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তারা কাজে যোগ দিতে না পারায় কমিশন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে শোকজ নোটিশ জারি করে। আদালত এই প্রক্রিয়াকে ত্রুটিপূর্ণ মনে করে অ্যাসোসিয়েশনকে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে কমিশনের কাছে বিস্তারিত আবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
প্রভাব ও পরবর্তী পদক্ষেপ
আদালতের এই কড়া অবস্থানের ফলে নির্বাচন কমিশন এখন তাদের জারি করা নোটিশ পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হবে। যদি কমিশনের সিদ্ধান্তে শিক্ষকরা সন্তুষ্ট না হন, তবে তারা পুনরায় আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে। ইতিপূর্বে কলেজ অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রেও কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মামলার রায় ভবিষ্যতে বিশেষ সক্ষম সরকারি কর্মচারীদের নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পথ আরও সুগম করবে।
এক ঝলকে
- নির্বাচনী ডিউটিতে না আসায় প্রায় ২০০০ দৃষ্টিহীন শিক্ষককে শোকজ করেছিল নির্বাচন কমিশন।
- কমিশনের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বিষয়টিকে মানবিক দিক থেকে দেখার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।
- অ্যাসোসিয়েশনকে কমিশনের কাছে আবেদন করতে বলা হয়েছে এবং ৯০ দিনের মধ্যে তার নিষ্পত্তি করতে হবে।
- সমাধান না হলে শিক্ষকরা পুনরায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ পাবেন।