পকেটে টান আর হবে না, আর্থিক স্বস্তি ফেরাতে ম্যাজিকের মতো কাজ করবে ৭০-১০-১০-১০ ফর্মুলা!

পকেটে টান আর হবে না, আর্থিক স্বস্তি ফেরাতে ম্যাজিকের মতো কাজ করবে ৭০-১০-১০-১০ ফর্মুলা!

বর্তমান সময়ের আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতির বাজারে মাসের শেষে পকেটে টাকা অবশিষ্ট রাখা সাধারণ মানুষের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরিকল্পিত খরচ আর আয়ের সঠিক বণ্টন না জানলে উপার্জিত অর্থ নিমেষেই শেষ হয়ে যায়। এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হচ্ছে ‘৭০-১০-১০-১০’ নিয়ম। সহজ এই আর্থিক গাণিতিক সূত্রটি মেনে চললে আয়ের প্রতিটি পয়সার যেমন হিসাব থাকবে, তেমনি নিশ্চিত হবে ভবিষ্যৎ সঞ্চয়।

কী এই নতুন আর্থিক নীতি?

এই নিয়ম অনুযায়ী, একজন ব্যক্তির মোট মাসিক আয়কে প্রধান চারটি ভাগে ভাগ করতে হয়। এর ফলে প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর পাশাপাশি বিনিয়োগ ও শখের জন্য আলাদা তহবিল গঠন করা সম্ভব। এর প্রধান ভিত্তি হলো ভারসাম্য। আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ প্রথমেই আলাদা করে ফেললে অহেতুক ব্যয়ের প্রবণতা কমে যায় এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় থাকে।

আয়ের চার ভাগের সঠিক বণ্টন

  • ৭০ শতাংশ প্রয়োজনীয় খরচ: আয়ের সিংহভাগ অর্থাৎ ৭০ শতাংশ টাকা বাড়ি ভাড়া, ইএমআই, রেশন, বিদ্যুৎ ও জলের বিল, যাতায়াত এবং সন্তানদের স্কুলের বেতন বা ওষুধের মতো মৌলিক চাহিদার জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে। এটি জীবনধারণের প্রাথমিক ভিত্তি।
  • ১০ শতাংশ সঞ্চয়: আয়ের দ্বিতীয় অংশটি জমা করতে হবে জরুরি তহবিল বা ‘এমার্জেন্সি ফান্ড’ হিসেবে। বিপদে বা আকস্মিক প্রয়োজনে এই টাকা আপনাকে ঋণের হাত থেকে বাঁচাবে।
  • ১০ শতাংশ বিনিয়োগ: দীর্ঘমেয়াদী সম্পদ বৃদ্ধির জন্য আয়ের ১০ শতাংশ মিউচুয়াল ফান্ড, এসআইপি বা পিপিএফ-এর মতো লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করতে হবে। এটি ভবিষ্যতে আর্থিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করে।
  • ১০ শতাংশ ব্যক্তিগত শখ: জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে শেষ ১০ শতাংশ টাকা নিজের বিনোদন, ভ্রমণ বা কেনাকাটার জন্য ব্যয় করা যেতে পারে। এতে সঞ্চয়ের চাপে মানসিক অবসাদ তৈরি হয় না।

আর্থিক স্থিতিশীলতায় এর প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিয়মটি মধ্যবিত্ত ও নির্দিষ্ট বেতনের চাকরিজীবীদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। যদি কারও ব্যয় বেশি এবং আয় কম হয়, তবে তারা সাময়িকভাবে প্রয়োজনীয় খরচের হার কিছুটা বাড়িয়ে সঞ্চয় বা বিনিয়োগের হার সামান্য কমাতে পারেন, তবে কোনোটিই পুরোপুরি বন্ধ করা উচিত নয়। মাস শেষে উপার্জিত অর্থ হাতে পাওয়ার সাথে সাথেই এই বিভাজন করে ফেললে খরচের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সহজ হয়। দীর্ঘমেয়াদে এই অভ্যাস শুধু আর্থিক চাপই কমায় না, বরং একজন ব্যক্তিকে যেকোনো আর্থিক সংকটের মোকাবিলায় শক্তিশালী করে তোলে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *