মে মাসের সেই বিশেষ রবিবার, কীভাবে শুরু হলো মাদার্স ডে?

মা—একটি ছোট শব্দ, কিন্তু এর গভীরতা অসীম। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় মাতৃদিবস। দিনটি মূলত মায়েদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রতি সম্মান জানানোর জন্য উৎসর্গ করা হয়েছে। তবে আজকের এই বিশ্বজনীন উদযাপনের পেছনে রয়েছে এক মহীয়সী নারী এবং তাঁর দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস।
আবেগ ও সংগ্রামের প্রেক্ষাপট
আধুনিক মাতৃদিবসের সূচনা হয় বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে। এর প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন মার্কিন নারী অ্যানা জার্ভিস। তবে এই ভাবনার বীজ বপন করেছিলেন তাঁর মা, অ্যান মারিয়া রিভস জার্ভিস। তিনি একজন একনিষ্ঠ সমাজকর্মী ছিলেন এবং মার্কিন গৃহযুদ্ধের সময় আহত সেনাদের সেবায় ‘মাদার্স ডে ওয়ার্ক ক্লাব’ গঠন করেছিলেন। ১৯০৫ সালে মায়ের মৃত্যুর পর অ্যানা জার্ভিস মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং অনুধাবন করেন যে, সন্তানদের উচিত জীবিত বা মৃত সকল মাকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট দিন রাখা। মূলত মায়ের আসাম্পূর্ণ স্বপ্নপূরণ এবং মাতৃত্বের মহিমাকে তুলে ধরতেই তিনি এই দিবস প্রবর্তনের লড়াই শুরু করেন।
স্মরণসভা থেকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি
মাতৃদিবসের প্রথম আনুষ্ঠানিক আয়োজনটি ছিল বেশ আবেগঘন। ১৯০৮ সালে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার গ্রাফটনের একটি গির্জায় মায়ের স্মরণে একটি সভা করেন অ্যানা। সেখানে তিনি মায়েদের প্রিয় সাদা কার্নেশন ফুল বিতরণ করেছিলেন, যা পরবর্তীতে এই দিবসের প্রতীক হয়ে ওঠে। এরপর দিনটিকে জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণার দাবিতে তিনি লেখালেখি ও প্রচারণা চালিয়ে যান। অবশেষে তাঁর পরিশ্রম সার্থক হয় ১৯১৪ সালে। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘মাতৃদিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে একটি বিল স্বাক্ষর করেন।
সামাজিক প্রভাব ও বর্তমান বাস্তবতা
অ্যানা জার্ভিস চেয়েছিলেন এই দিনটি হবে একান্তই ব্যক্তিগত ও আবেগনির্ভর। তবে কালের বিবর্তনে এটি এখন বড় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এই দিনটি মায়েদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে, যা পারিবারিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করছে। যদিও অ্যানা পরবর্তীকালে এই দিবসের বাণিজ্যিকীকরণের বিরোধিতা করেছিলেন, তবুও বিশ্বজুড়ে মায়েদের সম্মান জানানোর এই ধারা আজও অমলিন। এটি সমাজকে মনে করিয়ে দেয় যে, মাতৃত্বের ত্যাগ কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা চিরন্তন ও বিশ্বজনীন।