শুভেন্দু অধিকারী এখন মুখ্যমন্ত্রী: তিস্তা চুক্তির জট কাটবে না কি বাড়বে অনুপ্রবেশ বিতর্ক? কী বলছে বাংলাদেশের মিডিয়া?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে প্রথমবারের মতো বিজেপি সরকার গঠন এবং শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ। শনিবারের এই শপথ গ্রহণের পর বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে যেমন দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে আশার আলো দেখছেন অনেকে, অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে গভীর উদ্বেগ।
তিস্তা চুক্তিতে আশার আলো ও নতুন বাস্তবতা
বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, এতদিন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক মতভেদের কারণে তিস্তা চুক্তি ঝুলে ছিল। কিন্তু এখন দিল্লি ও কলকাতা—উভয় প্রান্তেই একই দলের শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় সেই ‘অজুহাত’ আর ধোপে টিকবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ইতিমধ্যে তিস্তা চুক্তি নিয়ে দ্রুত আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। ভারতের উত্তরবঙ্গে বিজেপির শক্ত অবস্থান থাকায় মোদী সরকার এখন চাইলেই অভ্যন্তরীণ বাধা কাটিয়ে এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে সই করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চ্যালেঞ্জ
সীমান্তের এপারে উচ্ছ্বাস থাকলেও ওপারে রয়েছে অস্বস্তি। বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের নেতা নাহিদ ইসলাম পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘুদের ভোটাধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সুরে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ভারত সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন যেন ধর্ম বা জাতির ভিত্তিতে কাউকে নিশানা না করা হয়। বাংলাদেশের গণমাধ্যম ‘ডেইলি স্টার’-এর মতে, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের সময় ‘অনুপ্রবেশ’ বা ‘দেশান্তর’ সংক্রান্ত যেসব কড়া রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা ঢাকার জন্য এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে। হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির এই উত্থান দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বাণিজ্যিক করিডোরগুলোর ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।