‘বুবাইদা জিন্দাবাদ’! মাঝরাতেও শান্তিকুঞ্জে উপচে পড়া ভিড়, মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসে প্রথম রাতেই পাড়ায় শুভেন্দু

শনিবার কলকাতার ব্রিগেডে রাজকীয় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে মধ্যরাতেই নিজের শহর কাঁথিতে ফিরলেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঘরের ছেলেকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাছে পেতে শনিবার সন্ধ্যা থেকেই শান্তিকুঞ্জের সামনে ভিড় জমিয়েছিলেন শত শত প্রতিবেশী ও অনুরাগী। রাত যত বেড়েছে, অপেক্ষার উত্তেজনা তত পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। অবশেষে রাত ২টো নাগাদ যখন তাঁর কনভয় শান্তিকুঞ্জে পৌঁছোয়, তখন এলাকা ‘বুবাইদা জিন্দাবাদ’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।
আবেগঘন সংবর্ধনা ও প্রতিবেশীদের উচ্ছ্বাস
শনিবার সকালে ব্রিগেডে যখন শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান চলছিল, তখন থেকেই কাঁথির শান্তিকুঞ্জ সংলগ্ন এলাকায় উৎসবের মেজাজ তৈরি হয়। বড় পর্দায় সেই দৃশ্য দেখে উল্লাসে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। শুভেন্দুর বাবা শিশির অধিকারী ও মা গায়ত্রী অধিকারী বার্ধক্যজনিত কারণে ব্রিগেডে যেতে না পারলেও বাড়িতে বসেই ছেলের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান দেখেন। এরপর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা পদ্মফুলের মালা ও ফুলের স্তবক নিয়ে প্রিয় ‘বুবাই’কে দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনতে থাকেন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এলাকায় তাঁর প্রথম আগমনে নিরাপত্তার কড়াকড়ি থাকলেও, পুরনো মেজাজেই গাড়ি থেকে নেমে প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন তিনি।
কর্মব্যস্ত দিন শেষে ঘরের টানে ফেরা
শপথ নেওয়ার পর দিনভর ঠাসা কর্মসূচি ছিল নতুন মুখ্যমন্ত্রীর। জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি, ভবানীপুরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাসভবন এবং ভারত সেবাশ্রমে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন তিনি। প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও তৎপরতা দেখিয়ে প্রথম দিনেই মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সেরে তবেই কাঁথির উদ্দেশে রওনা দেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছেও প্রথম রাতেই পৈতৃক ভিটেয় ফিরে যাওয়া শুভেন্দু অধিকারীর জনসংযোগের এক চিরাচরিত কৌশল। তবে নিরাপত্তার খাতিরে বাড়ির সামনে গার্ডরেল বসানোর প্রস্তাব উঠলেও পরিবারের পক্ষ থেকে তা নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, ঘরের ছেলের কাছে প্রতিবেশীদের যাতায়াত আগের মতোই অবাধ থাকবে। এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় জনমানসে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যার প্রতিফলন দেখা গেছে রবিবার সকালেও শান্তিকুঞ্জের বাইরে জমে থাকা উপচে পড়া ভিড়ে।