পলিটিক্যাল স্ট্র্যাটেজিস্ট থেকে সোজা মন্ত্রিসভায়! চিনে নিন তামিলনাড়ুর কনিষ্ঠতম মন্ত্রী এস. কীর্তনাকে

পলিটিক্যাল স্ট্র্যাটেজিস্ট থেকে সোজা মন্ত্রিসভায়! চিনে নিন তামিলনাড়ুর কনিষ্ঠতম মন্ত্রী এস. কীর্তনাকে

তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচনা করে অভিনেতা বিজয়-এর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় স্থান করে নিয়েছেন ২৯ বছর বয়সী এস. কীর্তনা। তামিঝাগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) দলের এই তরুণ নেত্রী কেবল মন্ত্রিসভার কনিষ্ঠতম সদস্যই নন, বরং দীর্ঘ কয়েক দশক পর রাজ্যের দ্বিমুখী রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দেওয়ার অন্যতম কারিগর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। পেশাদার রাজনৈতিক কৌশলী থেকে সরাসরি জনসেবায় আসা কীর্তনা বিরুধুনগর জেলার শিবকাশী কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েছেন।

রাজনৈতিক উত্থান ও শিবকাশীর লড়াই

১৯৯৬ সালে বিরুধুনগরে জন্মগ্রহণ করা কীর্তনা পড়াশোনা করেছেন গণিত ও পরিসংখ্যান নিয়ে। পুদুচেরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করার পর তিনি আইপ্যাক (I-PAC)-এর মতো নামী সংস্থায় রাজনৈতিক পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। তৃণমূল স্তরে জনসংযোগ এবং ডিজিটাল ক্যাম্পেইন ম্যানেজমেন্টে তাঁর দক্ষতা বিজয়-এর দলের ভিত শক্ত করতে সাহায্য করেছে। এবারের নির্বাচনে শিবকাশী আসন থেকে তিনি কংগ্রেস প্রার্থী অশোকন জি-কে ১১,৬৭০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। উল্লেখ্য, এই প্রথম কোনো নারী শিবকাশী আসনের বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হলেন, যা দীর্ঘদিনের পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্যের অবসান ঘটিয়েছে।

শিল্পাঞ্চল ও শ্রমিক কল্যাণে অঙ্গীকার

বাজি, দেশলাই এবং প্রিন্টিং শিল্পের জন্য পরিচিত শিবকাশী এলাকাটি দীর্ঘকাল ধরে শিল্প নিরাপত্তা ও উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবার অভাবে জর্জরিত। কীর্তনা তাঁর নির্বাচনী প্রচারে এই বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। বিপজ্জনক রাসায়নিকের সংস্পর্শে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য বীমা সুবিধা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং নারী শ্রমিকদের জন্য সমান মজুরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে আতশবাজি শিল্পে কর্মরতদের জন্য জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করা তাঁর মন্ত্রিসভার মেয়াদে অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে।

হিন্দি বিতর্ক ও জাতীয় রাজনীতির লক্ষ্য

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে হিন্দি ভাষার ব্যবহার বরাবরই একটি স্পর্শকাতর বিষয়। তবে কীর্তনা হিন্দি ভাষায় অনর্গল কথা বলে এবং সেই ভাষায় প্রচার চালিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তাঁর মতে, দলের বার্তা জাতীয় ও বৈশ্বিক স্তরে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই তিনি এই কৌশল গ্রহণ করেছেন। দ্রাবিড় রাজনীতির চিরাচরিত বলয় ভেঙে বিজয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার যখন ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র বিকল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, তখন কীর্তনার মতো শিক্ষিত ও প্রযুক্তি-নির্ভর তরুণ নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়া দলের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনারই অংশ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *