‘টিকিট পেতে ৫০ লাখ ঘুষ!’ আইপ্যাক ও মমতা-অভিষেককে বিঁধে এবার চরম বিস্ফোরক ঋজু দত্ত

নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহের সুর আরও চড়া হলো। এবার দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক-এর বিরুদ্ধে সরাসরি অর্থ লেনদেন ও দুর্নীতির বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন সাসপেন্ডেড তৃণমূল নেতা ঋজু দত্ত। তাঁর দাবি, বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিনিময়ে তাঁর কাছে ৫০ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছিল। এই হারের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দলে বড়সড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন তিনি।
টিকিট বিক্রির গুরুতর অভিযোগ
ঋজু দত্তর অভিযোগ অনুযায়ী, ডেবরা কেন্দ্র থেকে তাঁর প্রার্থী হওয়া নিশ্চিত ছিল। কিন্তু প্রতীক জৈনর দপ্তরে এক ব্যক্তির মাধ্যমে তাঁর কাছে ৫০ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়। তিনি জানান, টাকার জোগাড় করতে তাঁর পরিবার গয়না পর্যন্ত বিক্রি করতে প্রস্তুত ছিল, কিন্তু নৈতিকতার খাতিরে তিনি সেই পথে হাঁটেননি। ঋজুর দাবি, আইপ্যাক-এর কর্মকর্তারা জেলা স্তরে একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে এভাবেই অর্থ সংগ্রহ করেছেন এবং দলকে অন্ধকারের মধ্যে রেখে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছিলেন।
নেতৃত্বের ব্যর্থতা ও জনরোষের প্রভাব
তৃণমূলের এই পরাজয়ের পেছনে ঋজু দত্ত তিনটি প্রধান কারণকে চিহ্নিত করেছেন। প্রথমত, আইপ্যাক-এর খবরদারি এবং বিধায়ক-সাংসদদের ওপর ভুল সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া। দ্বিতীয়ত, নিচু তলার নেতাদের দুর্নীতি এবং হিন্দু মহিলাদের ওপর বছরের পর বছর চলা অত্যাচার। ঋজুর মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ১৫০০ টাকা দিয়ে মহিলাদের সম্মান কেনা সম্ভব নয়, যা ভোটের ফলে স্পষ্ট হয়েছে। তৃতীয়ত, মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়ন্ত্রণহীনতা। তাঁর অভিযোগ, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আইপ্যাক-এর ওপর অতি-নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন এবং ভুল রিপোর্ট দেখে বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন। এই সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা এবং নিচু তলার নেতাদের জনবিচ্ছিন্নতাই রাজ্যে তৃণমূলের পতনের মূল কারণ বলে তিনি মনে করছেন।