‘আতঙ্কের গ্রাম’: সন্ধ্যা নামলেই কেন নিঝুম হয়ে যায় হরিয়ানার এই জনপদ? নেপথ্যে থাকা কারণটি চমকে দেবে আপনাকে!

ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের ফরিদাবাদ জেলার ‘কোট’ গ্রাম এখন এক চরম আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে। যেখানে সন্ধ্যার সূর্য ডোবার সাথে সাথেই নেমে আসে এক অস্বাভাবিক নিস্তব্ধতা। জনমানবশূন্য হয়ে পড়ে গ্রামের প্রতিটি রাস্তাঘাট। তবে এই নীরবতার কারণ কোনো অতিপ্রাকৃত ঘটনা নয়, বরং লোকালয়ে চিতাবাঘের অবাধ বিচরণ ও ক্রমাগত হামলা।
বিপর্যস্ত জনজীবন ও থমকে যাওয়া অর্থনীতি
কোট গ্রামের বাসিন্দারা মূলত কৃষি ও পশুপালনের ওপর নির্ভরশীল। সম্প্রতি বন্য চিতাবাঘের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামটির স্বাভাবিক ছন্দ পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, চিতাবাঘটি এখন শুধু জঙ্গলে সীমাবদ্ধ নেই, দিনের আলোতেও তাকে গ্রামের আশেপাশে ঘুরতে দেখা যাচ্ছে। এর ফলে চাষিরা জমিতে কাজে যেতে ভয় পাচ্ছেন এবং পশুপালকরা তাদের গবাদি পশু নিয়ে বাইরে বের হতে পারছেন না। স্থানীয় বাসিন্দা জ উদ্দিন জানান, চিতাবাঘের হামলায় ইতিমধ্যেই বেশ কিছু গবাদি পশু প্রাণ হারিয়েছে, যা তাদের উপার্জনের প্রধান পথ বন্ধ করে দিচ্ছে। বিশেষ করে যারা ভেড়া পালনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন, তারা সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও নিরাপত্তার দাবি
আতঙ্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সন্ধ্যা সাতটার পর কোনো অভিভাবকই তাদের শিশুদের বাড়ির বাইরে যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছেন না। চিতাবাঘের ভয়ে মানুষ এখন নিজেদের ঘরেই কার্যত বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দিনের বেলাতেও একা মাঠে যাওয়া এখন প্রাণঘাতী ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন গ্রামবাসী। তারা দাবি জানিয়েছেন, দ্রুত ওই চিতাবাঘটিকে খাঁচাবন্দি করে জঙ্গলে ফিরিয়ে নেওয়া হোক এবং যাদের গবাদি পশু মারা গেছে, তাদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হোক। বন দপ্তরের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে গ্রামবাসীদের মধ্যে ক্রমেই ক্ষোভ দানা বাঁধছে।