“আমি চারটে বিয়ে করতে পারি, অনেক প্রেমিকা আছে!” বিয়ের রাতেই মহিলা ডাক্তারকে স্বামীর হুমকি

উত্তরপ্রদেশের কানপুরে এক নারী চিকিৎসকের আনা পৈশাচিক নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। খোদ একজন চিকিৎসক হয়েও শ্বশুরবাড়িতে যে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার তিনি হয়েছেন, তা আধুনিক সমাজব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, বিয়ের প্রথম রাত থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন। ম্যারেজ সাইটের মাধ্যমে আলাপ হওয়া সম্ভল জেলার এক ব্যবসায়ী পরিবারের সঙ্গে গত বছর তাঁর বিয়ে হয়েছিল।
বিশ্বাসঘাতকতা ও পাশবিক নির্যাতন
অভিযোগকারী চিকিৎসকের দাবি, বাসর রাতেই তাঁর স্বামী নিজের আসল রূপ প্রকাশ করেন। অত্যন্ত দাম্ভিকতার সঙ্গে তিনি জানান যে, তাঁর একাধিক নারীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে এবং তিনি চাইলেই চারটি বিয়ে করতে পারেন। ওই নারী চিকিৎসকের আরও অভিযোগ, তাঁকে কেবল যৌতুকের লোভে বিয়ে করা হয়েছে এবং তাঁকে বাড়িতে একজন গৃহকর্মীর মতো থাকতে বাধ্য করা হতো। নির্যাতনের মাত্রা এতটাই চরম ছিল যে, দুবার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে জোরপূর্বক ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত করান বলে তিনি জানিয়েছেন।
আইনি লড়াই ও নিরাপত্তার দাবি
তৃতীয়বার গর্ভধারণের পর নিজের জীবন ও অনাগত সন্তানের সুরক্ষায় ওই চিকিৎসক বাপের বাড়িতে চলে আসেন এবং সেখানে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তিনি বাপের বাড়িতে থাকাকালীনই তাঁর স্বামী প্রেমিকার সঙ্গে দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। এই বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
বর্তমানে কানপুর পুলিশ অভিযুক্ত স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে ১৩টি বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। তবে অভিযুক্তরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় ওই চিকিৎসক নিজের ও সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। ন্যায়বিচারের আশায় তিনি মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করেছেন। এই ঘটনা নারী নিরাপত্তা এবং পারিবারিক সহিংসতার ভয়াবহ চিত্রটি আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে।