৮ দলের লড়াই, ছিটকে গেল মুম্বই-লখনউ! প্লে-অফের অঙ্কে কার পাল্লা ভারী? দেখে নিন সমীকরণ

চলতি আইপিএল এখন চূড়ান্ত রোমাঞ্চকর পর্যায়ে। লখনউ সুপার জায়ান্টস এবং মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ছিটকে যাওয়ায় লড়াই এখন আট দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ। প্রথম চারে জায়গা করে নিতে প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজিই এখন অঙ্কের হিসেব মেলাতে ব্যস্ত। একদিকে বিরাট কোহলিদের দাপুটে অবস্থান, অন্যদিকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের ক্ষীণ আশা— সব মিলিয়ে কোটিপতি লিগের পয়েন্ট টেবিল এখন রীতিমতো রণক্ষেত্র।
শীর্ষ চার নিশ্চিত করার দৌড়ে যারা এগিয়ে
পরিসংখ্যানের বিচারে প্লে-অফের পথে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি)। ৯৪.৮২ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে কোহলিরা এখন ধরাছোঁয়ার বাইরে যাওয়ার অপেক্ষায়। বাকি তিন ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে জয় পেলেই তাদের শেষ চার প্রায় নিশ্চিত। সমীকরণ বলছে, হায়দরাবাদ ও গুজরাত টাইটান্সও খুব একটা পিছিয়ে নেই। ৯১.৭৪ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে প্যাট কামিন্সের হায়দরাবাদ আর একটি জয় পেলেই প্লে-অফে পা রাখবে। অন্যদিকে, শুভমন গিলের গুজরাতকে নিরাপদ থাকতে হলে বাকি তিন ম্যাচের মধ্যে অন্তত দুটিতে জয় নিশ্চিত করতে হবে।
কলকাতা ও পাঞ্জাবের জন্য মরণ-বাঁচন পরিস্থিতি
কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) জন্য সমীকরণটি বেশ কঠিন। তাদের হাতে থাকা চারটি ম্যাচের প্রতিটিই জিততে হবে। ১৭ পয়েন্টে পৌঁছাতে পারলে নেট রানরেটের সুবিধা নিয়ে শ্রেয়স আয়াররা প্লে-অফে যেতে পারেন, তবে একটি হারই তাদের বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দিতে পারে। মজার বিষয় হলো, এক ম্যাচ কম খেলে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে পাঞ্জাব কিংস। বাকি চার ম্যাচের মধ্যে দুটি জিতলেই তাদের সম্ভাবনা ৮৪ শতাংশের উপরে পৌঁছে যাবে। বিশেষ করে মুম্বই ও লখনউয়ের মতো ছিটকে যাওয়া দলের বিরুদ্ধে খেলা থাকায় পাঞ্জাব বাড়তি সুবিধা পেতে পারে।
ধুঁকছে চেন্নাই ও রাজস্থান, খাদের কিনারায় দিল্লি
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই সুপার কিংস এবং রাজস্থান রয়্যালসের জন্য প্লে-অফের পথ কিছুটা পিচ্ছিল। দুই দলকেই তাদের বাকি তিনটি ম্যাচের মধ্যে অন্তত দুটিতে জিততে হবে। রাজস্থানের ক্ষেত্রে নেট রানরেট বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। সবচেয়ে করুণ অবস্থা ঋষভ পন্থের দিল্লির। খাতায়-কলমে সম্ভাবনা থাকলেও, বাকি সব ম্যাচ জিতলেও তাদের পয়েন্ট দাঁড়াবে ১৪, যা প্লে-অফের জন্য যথেষ্ট নয় বললেই চলে। কার্যত একটি হারই তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দেবে। এই মরণ-বাঁচন লড়াইয়ের প্রভাব শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আইপিএলের রোমাঞ্চ জিইয়ে রাখবে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।