দুর্নীতিবাজদের রেহাই নেই, নবান্ন থেকে আমলাদের কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/05/11/suvendu-pics-2026-05-11-13-14-51.jpg?w=640&resize=640,360&ssl=1)
নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত রাজ্যের শীর্ষ আমলা ও সচিবদের বৈঠকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের কথা স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবারের এই বৈঠকে গত দেড় দশকের প্রশাসনিক অনিয়ম নিয়ে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি জানান, বিশেষ করে ওবিসি (OBC), এসসি (SC) ও এসটি (ST) সার্টিফিকেট ইস্যু করার ক্ষেত্রে যে জালিয়াতি হয়েছে, তার বিচার হবেই। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কাউকেই ছাড়ব না।”
ভুয়ো কাস্ট সার্টিফিকেট ও ওবিসি বিতর্ক
মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় ছিল ওবিসি সার্টিফিকেট নিয়ে হওয়া দীর্ঘদিনের অনিয়ম। এসআইআর (SIR) পর্বে যারা নিয়ম বহির্ভূতভাবে জাতি শংসাপত্র বিলি করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যে কলকাতা হাইকোর্ট বিপুল সংখ্যক ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল করেছে, যা বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন। মুখ্যমন্ত্রী সচিবদের উদ্দেশ্যে জানান, জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের সমস্ত ফাইল তাঁর কাছে রয়েছে এবং কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।
আবাস যোজনা ও কোভিড কেলেঙ্কারি
‘বাংলার বাড়ি’ বা আবাস যোজনা প্রকল্পে দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, যোগ্যদের বাদ দিয়ে ‘ভৌতিক উপভোক্তাদের’ নামে ঘর বরাদ্দ করার বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। পঞ্চায়েত দফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এই ধরনের সমস্ত অসঙ্গতি খুঁজে বের করতে। এছাড়াও কোভিডের সময় চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটায় যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, তা নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরিতে দুর্নীতির নেপথ্যে থাকা ব্যক্তি এবং নীরব সমর্থনকারীদেরও নজরদারির আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।
প্রশাসনের জন্য কড়া বার্তা
নবান্নের এই বৈঠক থেকে আমলাদের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট। চাটুকারিতা ত্যাগ করে সত্যের পথে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসনের স্তরে সত্য গোপন করার কোনো জায়গা নেই। বিশেষ করে সিএএ (CAA) আবেদনকারীদের তথ্য স্বচ্ছতার সঙ্গে খতিয়ে দেখার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন। এই পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে প্রশাসনিক স্তরে বড় ধরনের রদবদল ও আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মূলত স্বচ্ছ প্রশাসন গড়ে তোলা এবং দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলাই মুখ্যমন্ত্রীর এই হুঁশিয়ারির প্রধান লক্ষ্য।