বন্ধ হচ্ছে না লক্ষ্মীর ভাণ্ডার! প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটলেও তৃণমূল জমানার জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্পগুলি নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল নয়া সরকার। সোমবার নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন যে, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বা ‘যুবসাথী’র মতো চালু থাকা কোনো জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বন্ধ করা হচ্ছে না। বরং এই পরিষেবাগুলিকে আরও স্বচ্ছ ও আধুনিক করার ওপর জোর দিয়েছে বর্তমান সরকার।
প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তির ছোঁয়া
মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, প্রকল্পগুলো কত বছর আগের তা বিবেচ্য নয়, মানুষের স্বার্থে সবকটিই বহাল থাকবে। তবে প্রশাসনিক কাজে গতি আনতে ‘পেপারলেস’ অফিস এবং সমস্ত সরকারি পোর্টাল আপগ্রেড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উপভোক্তাদের সুবিধার্থে ডিরেক্ট বেনিফিশিয়ারি ট্রান্সফার (ডিবিটি) বা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়াটিকে আরও শক্তিশালী করা হবে। উল্লেখ্য, ভোটের আগে বিজেপি তাদের ইশতেহারে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বিকল্প হিসেবে দ্বিগুণ অর্থের ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
একগুচ্ছ কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সূচনা ও প্রশাসনিক রদবদল
প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই রাজ্যকে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও দীর্ঘদিনের জট কাটিয়ে সীমান্ত সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় সুখবর দিয়ে আবেদনের বয়সসীমা একধাক্কায় পাঁচ বছর বাড়ানো হয়েছে। একইসঙ্গে রাজ্যের আইএএস ও আইপিএস অফিসারদের কেন্দ্রীয় ট্রেনিংয়ে অংশ নেওয়ার অনুমতি এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) কার্যকর করার বিষয়েও সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো ‘গেম চেঞ্জার’ প্রকল্প চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে নয়া সরকার রাজ্যের নারী ভোটব্যাঙ্ক ও জনমানসে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখার কৌশল নিয়েছে। একদিকে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি রাজ্যে ফিরিয়ে আনা এবং অন্যদিকে বিদ্যমান রাজ্য প্রকল্পগুলি সচল রাখার মাধ্যমে প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটানোর ইঙ্গিত মিলেছে। আগামী সোমবার পরবর্তী মন্ত্রিসভার বৈঠকে আরজি কর ইস্যু, নারী নির্যাতন এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে বড়সড় সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা রয়েছে।