নবান্নে বড় রদবদল: একযোগে ৫০০ জন পুনর্নিযুক্ত আধিকারিক ও বোর্ড সদস্যকে ছাঁটাই করলেন শুভেন্দু

রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড়সড় সংস্কারের পথে হাঁটল নতুন সরকার। সোমবার নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের রেশ কাটতে না কাটতেই একযোগে রাজ্যের সমস্ত অ-সংবিধিবদ্ধ বোর্ড, নিগম (পিএসইউ) এবং অছি পরিষদ ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই কড়া পদক্ষেপে বিগত জমানার মনোনীত সদস্য ও পুনর্নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের এক লহমায় সরিয়ে দেওয়া হলো।
এক নির্দেশে অপসারিত শত শত কর্মকর্তা
প্রশাসনিক সূত্র অনুযায়ী, এই নির্দেশের ফলে প্রায় ৫০০ জন আধিকারিক তাঁদের পদ হারিয়েছেন। গত এক দশকে যে সমস্ত আইএএস, আইপিএস বা ডব্লিউবিসিএস অফিসার অবসরের পর গুরুত্বপূর্ণ পদে পুনর্নিয়োগ পেয়েছিলেন, তাঁদের কর্মজীবন আজ থেকেই শেষ। প্রতিটি দপ্তরের সচিবদের কাছে পাঠানো নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, ৬০ বছর বয়স পার করার পর যাঁরা চুক্তিতে বা ‘এক্সটেনশন’ নিয়ে কাজ করছিলেন, তাঁদের নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি বোর্ডের চেয়ারম্যান, ডিরেক্টর বা সদস্য হিসেবে মনোনীত ব্যক্তিদের মেয়াদও ফুরিয়েছে।
প্রশাসনের খোলনলচে বদলের কৌশল
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিগত সরকারের তৈরি করা ‘পলিটিক্যাল ইকোসিস্টেম’ সম্পূর্ণ ভেঙে দিতে চাইছে নব্য বিজেপি সরকার। অভিযোগ ছিল, প্রাক্তন আমলাদের ব্যবহার করে প্রশাসনকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছিল। এই ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে মূলত তরুণ আধিকারিকদের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার এবং প্রশাসনিক কাজে গতি আনার ইঙ্গিত দিচ্ছে নবান্ন।
সকালে মন্ত্রিসভার বৈঠকে চাকরির পরীক্ষার বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় ছাড় দেওয়ার পর বিকেলের এই সিদ্ধান্ত নবান্নে কর্মতৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে। মূলত রাজনৈতিক আনুগত্যের ঊর্ধ্বে উঠে পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করাই এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, এই বিপুল সংখ্যক শূন্যপদে নতুন সরকার কোন স্তরের আধিকারিকদের নিয়ে আসে।