৬০ পার হলেই ছুটি! অবসরপ্রাপ্তদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলে বড় সিদ্ধান্ত রাজ্যের

রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন আনতে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল নতুন সরকার। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর জানানো হয়েছে, ষাট বছর বয়সের পর আর কোনো আধিকারিক বা কর্মীকে পদে রাখা হবে না। গত সরকারের আমলে অবসর গ্রহণের পর যাঁদের পুনরায় নিয়োগ করা হয়েছিল, তাঁদের নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিনের বৈঠকে মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা, স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষসহ উচ্চপদস্থ পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কাজের স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক সংস্কার
প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তোষামোদ নয় বরং জনহিতকর কাজের ওপরই জোর দেবে বর্তমান সরকার। আমলাদের উদ্দেশ্যে তিনি কড়া বার্তা দিয়ে জানান, নথিপত্রে ‘মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণা’ লেখার প্রয়োজন নেই, বরং কাজের মাধ্যমেই জনসেবা সুনিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসনের অন্দরে ‘হ্যাঁ-তে হ্যাঁ’ মেলানোর সংস্কৃতি বন্ধ করে রাজ্যের স্বার্থে নিরপেক্ষ মতামত প্রদানের জন্য সচিবদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে, সরকারি কর্মসূচিতে আধিকারিকদের প্রাপ্য সম্মান বজায় রেখে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার কথা জানানো হয়েছে।
কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
অবসরপ্রাপ্তদের মেয়াদ না বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তের পেছনে প্রধানত দুটি কারণ কাজ করছে। প্রথমত, প্রশাসনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা এবং দ্বিতীয়ত, নতুন প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। শূন্যপদগুলি এখন থেকে নতুন নিয়োগ এবং কর্মরতদের পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হবে। বিশেষ কোনো ক্ষেত্র ছাড়া ৬০ বছর বয়সের পর চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ থাকবে না; সেক্ষেত্রে ক্যাবিনেট সচিবালয়ে বিশেষ প্রস্তাব পাঠাতে হবে। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে স্থবির হয়ে থাকা পদোন্নতি প্রক্রিয়া গতি পাবে এবং প্রশাসনে নতুনদের কাজের সুযোগ বাড়বে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।