মধ্যরাতে বাড়িতে ঢুকে তাণ্ডব! মহিলাদের চুল কেটে হাঁসুয়ার কোপ, রণক্ষেত্র সামশেরগঞ্জ

মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জের ঘনশ্যামপুর গ্রামে পুরনো বিবাদকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেশী একটি পরিবারের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয়ে মহিলা ও শিশুসহ পরিবারের সদস্যদের রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে একদল দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় গুরুতর জখম অবস্থায় একই পরিবারের ছয় সদস্য বর্তমানে জঙ্গিপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার নৃশংসতায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
পুরনো বিবাদ ও হামলার নেপথ্য
ঘটনার সূত্রপাত মাসখানেক আগে। অভিযোগ, গ্রামের উমর ফারুকের পরিবারের এক মহিলাকে দিনের পর দিন উত্যক্ত করত প্রতিবেশী অলিউল শেখ। এই নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিবাদ শুরু হয় এবং বিষয়টি থানা ও আদালত পর্যন্ত গড়ায়। সম্প্রতি সেই মামলার প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত গোলাপ শেখের বাড়িতে আদালতের নোটিস পৌঁছালে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। অভিযোগ উঠেছে, আইনের তোয়াক্কা না করে প্রতিশোধ নিতেই গোলাপ শেখ ও ইব্রাহিম শেখের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল রাতের অন্ধকারে প্রতিবেশীর বাড়িতে হামলা চালায়।
নৃশংসতা ও পুলিশের পদক্ষেপ
হামলাকারীরা কেবল মারধরই করেনি, বরং হাঁসুয়া ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপ মারতে শুরু করে। এমনকি বাড়ির মহিলাদের চুল কেটে নিয়ে তাঁদের লাঞ্ছিত করা হয় বলেও অভিযোগ। ঘটনার খবর পেয়ে সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ দ্রুত সক্রিয় হয় এবং অভিযানে নেমে এক মহিলাসহ মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের সোমবার জঙ্গিপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুই পরিবারের দীর্ঘদিনের শত্রুতার কারণেই এই আক্রমণ। এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা এড়াতে পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই ঘটনার সাথে যুক্ত বাকিদেরও খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে প্রশাসন। আদালতের নোটিস আসার পর এই ধরণের আইন হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনা গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।