নিদা খানকে আশ্রয় দিলেই কড়া সাজা! AIMIM কাউন্সিলরের অট্টালিকায় চলল যোগী-স্টাইল বুলডোজার

নিদা খানকে আশ্রয় দিলেই কড়া সাজা! AIMIM কাউন্সিলরের অট্টালিকায় চলল যোগী-স্টাইল বুলডোজার

নাসিকের আলোচিত টিসিএস ধর্মান্তর মামলার মূল অভিযুক্ত নিদা খানকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপের মুখে পড়লেন এআইএমআইএম (AIMIM) কাউন্সিলর মতিন প্যাটেল। পলাতক থাকাকালীন নিদা খানকে নিজের বাংলোয় লুকিয়ে রাখার তথ্য সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। শনিবার ছত্রপতি সম্ভাজিনগর পৌরনিগম মতিন প্যাটেলের ওই বাংলোর অবৈধ অংশ গুঁড়িয়ে দিতে বুলডোজার অভিযান শুরু করেছে। আদালতের নির্দেশে মূল অভিযুক্ত নিদা খান বর্তমানে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।

অবৈধ নির্মাণ ও প্রশাসনিক তৎপরতা

পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, গত ৭ মে গ্রেফতার হওয়ার আগে নিদা খান ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের নারেগাঁও এলাকায় মতিন প্যাটেলের মালিকানাধীন একটি দোতলা বাংলোয় আত্মগোপন করেছিলেন। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পরই ওই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পুলিশ। এরপরই সক্রিয় হয় পৌর প্রশাসন। কউসার পার্ক এলাকায় অবস্থিত প্রায় ৬০০ বর্গফুটের ওই নির্মাণটি বৈধ কি না, তা নিয়ে মতিন প্যাটেলকে নোটিশ পাঠানো হয়। পৌরনিগমের দাবি, নির্ধারিত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মালিকপক্ষ কোনো বৈধ নথি পেশ করতে ব্যর্থ হওয়ায় অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক উত্তাপ ও তদন্তের গতিপ্রকৃতি

এই বুলডোজার অভিযানকে কেন্দ্র করে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিরোধী দলগুলো একে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও, এআইএমআইএম-এর পক্ষ থেকে একে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দাবি করা হচ্ছে। বর্তমানে কাউন্সিলর মতিন প্যাটেল পলাতক এবং তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় পুলিশের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, নিদা খানকে এই দীর্ঘ সময় পলাতক থাকতে আর কারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাহায্য করেছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ধর্মান্তর মামলার শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা বের করতে নাসিক পুলিশের একটি বিশেষ দল বর্তমানে ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে অবস্থান করছে। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, মূল অপরাধীর পাশাপাশি সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *