বিল মেটানো নিয়ে বিবাদ ফৌজদারি অপরাধ নয়! বড় স্বস্তি পেল কলকাতার বেসরকারি হাসপাতাল

কলকাতার নারায়ণ মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল ও তার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি ফৌজদারি অভিযোগ খারিজ করে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে উচ্চ আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, চিকিৎসার বিল সংক্রান্ত অসঙ্গতি বা পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ মূলত দেওয়ানি (সিভিল) প্রকৃতির। একে কোনোভাবেই ফৌজদারি অপরাধের আওতায় ফেলা যায় না।
বিচারপতি অলক আরাধে ও বিচারপতি নরসিংহের ডিভিশন বেঞ্চ মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে ২০২৩ সালে কলকাতা হাইকোর্টেরই একটি নির্দেশকে বাতিল করা হলো, যেখানে বারাসাতের ওই হাসপাতালের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চালানোর প্রাথমিক ভিত্তি খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আইনি লড়াই
ঘটনাটি ২০২১ সালের, যখন এক ব্যক্তি তাঁর মায়ের ঊরুর হাড় ভাঙার চিকিৎসার জন্য ওই হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন। অভিযোগকারীর দাবি ছিল, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ‘এইচআরসিটি’ স্ক্যানের নামে ২,৫০০ টাকা আদায় করেছে, যদিও সেই পরীক্ষাটি আদতে করানো হয়নি। এ ছাড়াও সময়মতো মেডিকেল রেকর্ড না দেওয়া এবং কর্মীদের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করা হয়েছিল। সেই ভিত্তিতে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪০৬ (বিশাসভঙ্গ), ৪২০ (প্রতারণা) এবং ১২০বি (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র)-সহ পশ্চিমবঙ্গ ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট অ্যাক্টের ধারায় নোটিশ জারি করা হয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও প্রভাব
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আদালতে জানায়, শুরুতে স্ক্যানটি করার পরিকল্পনা থাকলেও চিকিৎসকরা পরে প্রয়োজন মনে করেননি। ভুলবশত বিলে টাকাটি যোগ হলেও পরবর্তীতে তা সংশোধন করা হয়েছিল। আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে যে, হাসপাতালের বিরুদ্ধে প্রতারণার যে ‘মৌলিক উপাদান’ প্রয়োজন, তা এই মামলায় অনুপস্থিত। এটি নেহাতই একটি ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ হতে পারে, বিশেষ করে যখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ টাকা ফেরত দিতে সম্মত হয়েছিল।
এই রায়ের ফলে চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিল সংক্রান্ত ছোটখাটো ভুল বা পরিষেবার ঘাটতি নিয়ে অযথা ফৌজদারি মামলা করার প্রবণতা কমবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। এটি হাসপাতাল পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি স্বস্তিদায়ক নজির হয়ে থাকবে, যেখানে প্রশাসনিক ত্রুটিকে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র থেকে আলাদা করে দেখা হয়েছে।