পকেটে টান পড়ার আশঙ্কানি! এবার কি মহার্ঘ হচ্ছে পেট্রোল-ডিজেল? বড় সংকেত RBI গভর্নরের

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের ক্রমবর্ধমান মূল্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবার সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে সাধারণ মানুষের পকেটে। এতদিন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে তার প্রভাব পড়তে দেয়নি সরকার। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে খোদ রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার (আরবিআই) গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা এবার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হলে পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরা মূল্য বাড়ানো অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।
জ্বালানি সংকটের নেপথ্যে বিশ্বরাজনীতি
সুইজারল্যান্ডে আয়োজিত আইএমএফ ও সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের এক সম্মেলনে আরবিআই গভর্নর স্পষ্ট করেন যে, হরমুজ প্রণালীর আশেপাশে চলমান উত্তেজনার কারণে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হওয়ায় এই সংকটের আঁচ এড়ানো কঠিন হয়ে পড়ছে। এতদিন সরকারি তেল বিপণন সংস্থাগুলো বর্ধিত মূল্যের বোঝা নিজেরাই বহন করছিল এবং আবগারি শুল্ক কমিয়ে দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সরকার আর অনির্দিষ্টকালের জন্য দাম অপরিবর্তিত রাখতে পারবে না।
অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব ও সরকারের চ্যালেঞ্জ
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থায়, যা সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতিকে উসকে দিতে পারে। আরবিআই গভর্নর উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান সরবরাহ সংকটের মাত্রা এতটাই বেশি যে কেবল মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কাঠামো দিয়ে এটি সামলানো সম্ভব নয়; এর জন্য শক্তিশালী আর্থিক সমন্বয় প্রয়োজন। যদি বিশ্ববাজারে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকে, তবে সরকার সেই বর্ধিত খরচের একটি অংশ সাধারণ ক্রেতাদের ওপর চাপিয়ে দিতে বাধ্য হতে পারে। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেবে।