১২ বছর আগের বিভীষিকা! পুলিশ অফিসারের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক শমীক ভট্টাচার্য

১২ বছর আগের বিভীষিকা! পুলিশ অফিসারের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক শমীক ভট্টাচার্য

রাজ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসার আবহে ১২ বছর আগের এক বীভৎস স্মৃতি উসকে দিলেন বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য। বীরভূমের ইলামবাজারে সংখ্যালঘু বিজেপি কর্মী শেখ রহিমের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি তৎকালীন এক পুলিশ অফিসারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। পান্ডে নামের সেই পুলিশ অফিসারকে এখনও খুঁজছেন বলে জানিয়েছেন তিনি, যার উপস্থিতিতেই এই নারকীয় ঘটনা ঘটেছিল বলে অভিযোগ।

২০১৪ সালের ৭ জুন ইলামবাজারের ঘুড়িষা পঞ্চায়েতের কানুর গ্রামে খুন হয়েছিলেন রহিম শেখ। শমীক ভট্টাচার্যের বর্ণনায় সেই দিনটি ছিল এক চরম অমানবিকতার সাক্ষী। তিনি জানান, রহিমের দুই মেয়েকে লাঞ্ছিত করে নগ্ন অবস্থায় রাস্তায় ঘোরানো হয়েছিল এবং তাদের চোখের সামনেই বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সেই সময় সেখানে উপস্থিত থেকেও একজন পুলিশ অফিসার কোনো পদক্ষেপ নেননি, উল্টো রিপোর্টে বিষয়টিকে ‘ওভারপাওয়ার্ড’ বা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে বলে উল্লেখ করেছিলেন।

সংখ্যালঘু কর্মীদের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সংঘাত

বিজেপির এই বর্ষীয়ান নেতার মতে, রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে অতীতে সংখ্যালঘু বিজেপি কর্মীদের ওপর যে ধরনের অত্যাচার হয়েছে, তা অকল্পনীয়। তিনি দাবি করেন, এবারও যদি ফলাফলে বিজেপির পাল্লা ভারী না থাকত, তবে কয়েক শ কর্মী প্রাণ হারাতেন। মূলত নিরাপত্তাহীনতার কারণেই দলের অনেক সংখ্যালঘু সমর্থককে আগে প্রকাশ্যে আনা সম্ভব হয়নি বলে তিনি মনে করেন।

শেখ রহিম হত্যাকাণ্ডের এই স্মৃতিচারণ বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শমীক ভট্টাচার্যের এই বক্তব্য কেবল একজন পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়, বরং ভোট-পরবর্তী হিংসার ইতিহাসে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে ধরল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পুরনো ক্ষোভ উসকে দিয়ে তিনি আসলে বর্তমান পুলিশ ও প্রশাসনকে কড়া বার্তা দিতে চেয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *