কোথাও বিষাক্ত নিঃশ্বাস আর কোথাও ফুটন্ত মাটি, মৃত্যুর ওপারে হাতছানি দিচ্ছে ‘ভয়ংকর সুন্দর’ পৃথিবী!

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘চাঁদের পাহাড়’ উপন্যাসের সেই দুঃসাহসিক অভিযাত্রী শংকর যেন আজও বাঙালির রোমাঞ্চের প্রেরণা। প্রাণের ঝুঁকি আর অজানাকে জানার নেশায় মানুষ ছুটে চলে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। তবে এই গ্রহের বুকেই এমন কিছু স্থান রয়েছে, যেখানে প্রকৃতির রূপ যতটা চোখধাঁধানো, পরিবেশ ততটাই প্রাণঘাতী। ইউক্রেনের তেজস্ক্রিয় চেরনোবিল থেকে ব্রাজিলের বিষধর সাপের দ্বীপ— বিশ্বের এই বিপজ্জনক স্থানগুলো পর্যটকদের জন্য চিরকালই যেমন আতঙ্কের, তেমনই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
প্রকৃতির চরম রুদ্ররূপ ও জলবায়ুর মরণফাঁদ
তালিকায় শুরুতেই রয়েছে আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার ‘ডেথ ভ্যালি’। এর ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা কোনো কোনো সময় ৯৩.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা আক্ষরিক অর্থেই ফুটন্ত জলের সমান। অন্যদিকে, ইথিওপিয়ার ডানাকিল মরুভূমিকে বলা হয় ‘নরকের দ্বার’। জীবন্ত আগ্নেয়গিরি আর বিষাক্ত গ্যাসের আবহে সেখানে টিকে থাকাই দায়। একইভাবে তানজানিয়ার লেক ন্যাট্রন এক আশ্চর্য বিভীষিকা। এই হ্রদের অতি-ক্ষারীয় জল যেকোনো প্রাণীকে মুহূর্তের মধ্যে পাথরের মমিতে রূপান্তর করার ক্ষমতা রাখে। জনশূন্য আন্টার্কটিকা মহাদেশও তার হাড়কাঁপানো শীতলতা ও দুর্গম পরিবেশ নিয়ে পর্যটকদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ।
অদৃশ্য বিষ আর সাপের রাজত্ব
মানুষের তৈরি বিপর্যয়ের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ইউক্রেনের চেরনোবিল। ১৯৮৬ সালের পারমাণবিক দুর্ঘটনার রেশ আজও কাটেনি; এখানকার বাতাসে এখনও মিশে আছে অদৃশ্য ঘাতক তেজস্ক্রিয়তা। আবার ব্রাজিলের ‘স্নেক আইল্যান্ড’ বা সাপের দ্বীপ যেন সাক্ষাৎ যমপুরী। দাবি করা হয়, এখানকার প্রতি বর্গমিটারে অন্তত একটি করে অত্যন্ত বিষধর ‘গোল্ডেন ল্যান্সহেড ভাইপার’ বাস করে, যার কামড়ে মৃত্যু অনিবার্য। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ার মাউন্ট সিনাবুং আগ্নেয়গিরি দীর্ঘকাল সুপ্ত থাকার পর আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠায় স্থানীয় জনজীবন ও পর্যটন এখন চরম ঝুঁকির মুখে।
মূলত ভৌগোলিক অবস্থান, চরমভাবাপন্ন জলবায়ু এবং অতীতের মানবিক ভুল এই অঞ্চলগুলোকে ভয়ংকর করে তুলেছে। তা সত্ত্বেও রোমাঞ্চপিয়াসী মানুষ বারবার সেখানে ফিরে যায় অজানাকে জয়ের নেশায়। তবে এই স্থানগুলোর ক্রমবর্ধমান বিপদ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রকৃতির শক্তির কাছে মানুষ কতটা অসহায়। সামান্য অসাবধানতা এখানে যেকোনো মুহূর্তে ডেকে আনতে পারে চিরকালীন নীরবতা।