নিট প্রশ্নফাঁসের নেপথ্যে শক্তিশালী প্রাইভেট মাফিয়া চক্র, ক্ষুব্ধ রাহুল গান্ধীর তোপ

নিট প্রশ্নফাঁসের নেপথ্যে শক্তিশালী প্রাইভেট মাফিয়া চক্র, ক্ষুব্ধ রাহুল গান্ধীর তোপ

দেশজুড়ে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। পরীক্ষা বাতিলের পর সিবিআই তদন্তের নির্দেশের মাঝেই সামনে আসছে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও সংগঠিতভাবে একটি চক্র এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের কাজ পরিচালনা করেছে। ইতিমধ্যে রাজস্থান পুলিশের স্পেশ্যাল অপারেশন গ্রুপ ১৫ জনকে আটক করেছে এবং জয়পুর থেকে মণীশ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাকে এই দুর্নীতির মূলচক্রী বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দেশজুড়ে ছড়িয়ে দুর্নীতির জাল

তদন্তে জানা গেছে, এই জালিয়াতির শিকড় কেবল একটি রাজ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রাজস্থান, হরিয়ানা, কেরল, জম্মু-কাশ্মীর, তেলেঙ্গানা এবং অন্ধ্রপ্রদেশের মতো একাধিক রাজ্যে এই চক্রের জাল ছড়িয়ে রয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয় এবং সেখান থেকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের কপি পৌঁছায় হরিয়ানায়। এরপর সেখান থেকেই বিভিন্ন সেটে প্রশ্নপত্র তৈরি করে তা নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারীরা ‘প্রাইভেট মাফিয়া’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সন্ধান পেয়েছেন, যেখানে প্রায় ৪০০ সদস্য যুক্ত ছিলেন। ওই গ্রুপের অ্যাডমিনও ইতিমধ্যে নিটের প্রশ্ন আদান-প্রদানের বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।

যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলার অভিযোগ

এই ঘটনায় বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি অভিযোগ করেছেন, ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থীর কঠোর পরিশ্রমের মর্যাদা দিতে ব্যর্থ হয়েছে এই সরকার। রাহুল গান্ধীর মতে, বহু অভিভাবক ঋণ নিয়ে বা গয়না বিক্রি করে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছেন, কিন্তু সংগঠিত দুর্নীতির ফলে সেই স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়েছে। তিনি এই ঘটনাকে যুবসমাজের বিরুদ্ধে এক ‘সংগঠিত অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। মহুয়া মৈত্রসহ অন্যান্য বিরোধী নেতারাও এই জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছেন।

প্রভাব ও আইনি পদক্ষেপ

এই প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের ফলে জাতীয় স্তরে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ভর্তির প্রক্রিয়া বড়সড় সংকটের মুখে পড়েছে। লক্ষ লক্ষ মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় দেশজুড়ে ক্ষোভ বাড়ছে। সরকারের পক্ষ থেকে মামলার তদন্তভার সিবিআই-কে দেওয়া হয়েছে যাতে এই চক্রের গভীর পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব হয়। দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। এই ঘটনার প্রভাবে আগামী দিনে সর্বভারতীয় পরীক্ষাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া আরও কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *