সহকর্মীদের অনাস্থা, একের পর এক ইস্তফায় টালমাটাল স্টারমার প্রশাসন

সহকর্মীদের অনাস্থা, একের পর এক ইস্তফায় টালমাটাল স্টারমার প্রশাসন

ব্রিটেনের রাজনীতিতে নাটকীয় মোড় নিয়ে কিয়ের স্টারমারের নেতৃত্বাধীন লেবার সরকার এখন গভীর সংকটে। স্থানীয় নির্বাচনে বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই মন্ত্রিসভায় একের পর এক পদত্যাগের হিড়িক লেগেছে। সর্বশেষ স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জুবাইর আহমেদের ইস্তফার মধ্য দিয়ে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে মন্ত্রিসভার চারজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য পদ ছাড়লেন। এই গণপদত্যাগ স্টারমার প্রশাসনের ভিত নাড়িয়ে দিলেও এখনই ক্ষমতা ছাড়তে নারাজ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। তার দাবি, এই মুহূর্তে তিনি সরে দাঁড়ালে দেশ ও সরকারে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে।

দলে বাড়ছে বিদ্রোহ ও বিভাজন

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের বিরুদ্ধে দলের ভেতরেই বিদ্রোহ চরম আকার ধারণ করেছে। মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী মাইতা ফাহনবুল্লেহ পদত্যাগ করে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন। তার মতে, বর্তমান সরকার জনগণের আস্থা ধরে রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। ফাহনবুল্লেহর এই কঠোর অবস্থানের পর লেবার পার্টির ৮৬ জন এমপি জনসমক্ষে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। যদিও আইনত ২০ শতাংশ এমপির আনুষ্ঠানিক অনাস্থা নেতৃত্ব পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন, কিন্তু বিদ্রোহীরা আপাতত জনমত ও সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগের কৌশল নিয়েছেন।

ব্যর্থতার দায় ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

স্টারমারের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এই গণ-অসন্তোষের মূলে রয়েছে দেশটির শোচনীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবি। দলের বড় একটি অংশ মনে করছে, স্টারমারের নেতৃত্বে ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয় পাওয়া আসাম্ভব। বিদ্রোহীদের মতে, এখনই নেতা পরিবর্তন করে নতুনভাবে দল গোছানো জরুরি। প্রধানমন্ত্রীর বিকল্প হিসেবে এরই মধ্যে আলোচনায় উঠে এসেছে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং, সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার এবং ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নাম।

গদি রক্ষায় স্টারমারের অনড় অবস্থান

চতুর্মুখী চাপের মুখেও স্টারমার নিজেকে সংশোধনের সুযোগ চাইছেন। দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে তিনি স্বীকার করেছেন যে কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন এবং নেতৃত্ব পরিবর্তন করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং অর্থনৈতিক সংস্কার সম্পন্ন করতে তার পদে থাকা অপরিহার্য। তবে ৭০ জন এমপির যৌথ বিবৃতি এবং চারজন সংসদীয় ব্যক্তিগত সচিবের (পিপিএস) পদত্যাগ তার সেই অবস্থানকে ক্রমশ দুর্বল করে দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, রাজা তৃতীয় চার্লসের অনুমতি নিয়ে অন্তর্বর্তী নির্বাচনের পথে হাঁটেন নাকি দলের ভেতরে সমঝোতার মাধ্যমে নিজের গদি রক্ষা করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *