জাতীয় দলে ফেরার ইঁদুরদৌড় নয়, ২২ গজে ভুবনেশ্বরের মোক্ষ এখন শুধুই মানসিক শান্তি

ভারতীয় ক্রিকেটে একটি অলিখিত নিয়ম দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে—আইপিএলের মঞ্চে গুটিকয়েক ম্যাচে নজরকাড়া পারফরম্যান্স করলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞ মহলে ‘কামব্যাক’-এর রব ওঠে। চলতি আইপিএলে ১১ ম্যাচে ২১ উইকেট নিয়ে সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন ভুবনেশ্বর কুমার। নতুন বলে সুইং আর ডেথ ওভারে নিখুঁত নিয়ন্ত্রণের চিরচেনা জাদুতে তিনি আরও একবার মুগ্ধ করেছেন ক্রিকেট বিশ্বকে। কিন্তু মজার বিষয় হলো, তাঁকে ঘিরে ফেরার যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তার থেকে যোজন যোজন দূরে দাঁড়িয়ে জীবনের এক অন্য দর্শন খুঁজে পেয়েছেন ৩৬ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ পেসার।
দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যের বদলে বর্তমানের স্বস্তি
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ভুবনেশ্বর কুমার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, জাতীয় দলে ফেরার কোনো তাগিদ এই মুহূর্তে তাঁর নেই। দীর্ঘ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উপলব্ধি করেছেন যে, ভবিষ্যতে ফেরার লক্ষ্যে নিজেকে চাপে ফেলার ফল হিতে বিপরীত হতে পারে। তিনি স্বীকার করেছেন, বহু বছর আগে থেকেই দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য স্থির করা বন্ধ করে দিয়েছেন। বর্তমানে তাঁর কাছে ভালো পারফর্ম করার চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে খেলার আনন্দটুকু নিংড়ে নেওয়া। গতির চেয়েও ক্রিকেটীয় বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে ব্যাটারদের পরাস্ত করাতেই এখন তাঁর পরম তৃপ্তি।
নির্বাচকদের দোদুল্যমানতা ও অভিজ্ঞতার কদর
ভুবনেশ্বরকে ঘিরে প্রত্যাবর্তনের দাবি জোরালো হওয়ার নেপথ্যে রয়েছে ভারতীয় পেস আক্রমণের বর্তমান অস্থিরতা। জসপ্রীত বুমরাহ ছাড়া অভিজ্ঞতার ঝুলি নিয়ে নির্বাচকদের আশ্বস্ত করার মতো বোলার বর্তমানে খুব কম। মহম্মদ সিরাজ বা অর্শদীপ সিংদের ধারাবাহিকতার অভাব ভুবনেশ্বরের প্রাসঙ্গিকতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তবে ২০২৮ অলিম্পিক বা আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রেক্ষাপটে তাঁর বয়সের হিসাবটি নির্বাচকদের ভাবনার প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে। মূলত চোটপ্রবণ ইতিহাস এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কারণেই নির্বাচকমণ্ডলী কোনো স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছে না।
চাপমুক্ত ক্রিকেটেই নতুন করে ফেরা
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অবিরাম চাপ থেকে দূরে থাকাটাই হয়তো ভুবনেশ্বরের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, দেশের হয়ে নিয়মিত খেলা বন্ধ হওয়ার পর আইপিএলের বাইরে পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ পাচ্ছেন। এই বিরতি তাঁর শরীরকে চনমনে রাখার পাশাপাশি মানসিকভাবেও তাঁকে হালকা রেখেছে। কোনো কিছু প্রমাণ করার মরিয়া ভাব নেই বলেই তাঁর বোলিংয়ে আজ এত সজীবতা। নির্বাচকরা তাঁকে ডাকবেন কি না তা অনিশ্চিত হলেও, ভুবনেশ্বর প্রমাণ করে দিয়েছেন যে খ্যাতির মোহে না ছুটে নিজের কাজটুকু নিরবে করে যাওয়াই একজন পেশাদারের আসল সার্থকতা।