আকাশছোঁয়া সোনা ও রুপো, এক ধাক্কায় রেকর্ড দাম বাড়াল মোদী সরকার

আকাশছোঁয়া সোনা ও রুপো, এক ধাক্কায় রেকর্ড দাম বাড়াল মোদী সরকার

কলকাতা, ১৩ মে ২০২৬: দেশের বুলিয়ন বাজারে বড়সড় ভূমিকম্প। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আমদানি শুল্ক এক লাফে ৯ শতাংশ বৃদ্ধি করার ফলে দেশের বাজারে সোনা ও রুপোর দামে অভাবনীয় উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। বুধবার মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১১ হাজার টাকারও বেশি বেড়েছে এবং রুপোর দাম রেকর্ড ভেঙে ৩ লক্ষ টাকার গণ্ডি ছাড়িয়েছে।

আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব

কেন্দ্রীয় সরকার সোনা ও রুপোর উপর প্রযোজ্য কাস্টমস ডিউটি বা আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে বেসিক কাস্টম ডিউটি ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ এবং কৃষি পরিকাঠামো ও উন্নয়ন কর (AIDC) ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের বাজেটে সরকার শুল্কে যে ছাড় দিয়েছিল, বর্তমান সিদ্ধান্তের ফলে তা কার্যত আগের অবস্থায় ফিরে এল। বিদেশ থেকে সোনা আমদানির খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই তার বোঝা গিয়ে পড়েছে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর।

বাজারের বর্তমান চিত্র ও দামের তারতম্য

বুধবার এমসিএক্স-এ ৫ জুন মেয়াদপূর্তিসহ ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দাম আগের ট্রেডিং দিনের তুলনায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১,৬৪,৪৯৭ টাকায় পৌঁছেছে। রুপোর ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি দেখা গেছে; ৩ জুলাই মেয়াদোত্তীর্ণ রুপোর দাম এক ধাক্কায় ২২,৩৬৭ টাকা বেড়ে প্রতি কিলোগ্রামে ৩,০১,৪২৯ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে বর্তমানের এই আকাশছোঁয়া দাম সত্ত্বেও জানুয়ারি মাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ দামের তুলনায় সোনা ও রুপো কিছুটা সস্তায় ট্রেড হচ্ছে।

কলকাতার স্থানীয় বাজারেও এই দাম বৃদ্ধির ব্যাপক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। বুধবার কলকাতায় ১ গ্রাম ২২ ক্যারেট সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ১৫,৩৯০ টাকা এবং ২৪ ক্যারেটের দাম ১৬,৭৮৯ টাকা। রুপোর দাম এক লাফে কেজিতে ৪০ হাজার টাকা বেড়ে বর্তমানে ৩,৩০,০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সিদ্ধান্তের কারণ ও লক্ষ্য

মূলত মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তৈরি হওয়া সংকট এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষিত রাখতেই সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিদেশ থেকে সোনা আমদানি করতে বিপুল পরিমাণ ডলার খরচ হয়, যা সরাসরি বাণিজ্য ঘাটতির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিপূর্বেই দেশবাসীকে অন্তত এক বছরের জন্য সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন যাতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হয়। শুল্ক বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত সেই লক্ষ্যপূরণেই এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *