রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাব, জুলাই পর্যন্ত পিছিয়ে গেল পঞ্চায়েত হিংসা মামলার শুনানি

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাব, জুলাই পর্যন্ত পিছিয়ে গেল পঞ্চায়েত হিংসা মামলার শুনানি

২০১৮ সালের পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে যে নজিরবিহীন রাজনৈতিক হিংসা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল, সেই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বড়সড় মোড় এল সুপ্রিম কোর্টে। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সঞ্জীব মেহেতার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে মামলাটি আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শীর্ষ আদালত। আগামী জুলাই মাসে, অর্থাৎ গ্রীষ্মকালীন ছুটির পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

আদালতে ‘উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন’ প্রসঙ্গ

শুনানি চলাকালীন আক্রান্তদের পক্ষের আইনজীবী গৌরব ভাটিয়া আদালতকে জানান যে, পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটেছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে মামলার অভিমুখও নতুন রূপ নিয়েছে। এছাড়া এক নিহতের ভাই বর্তমানে দিল্লি আসছেন এবং সামগ্রিক প্রেক্ষাপট পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে। বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সঞ্জীব মেহেতার ডিভিশন বেঞ্চ আইনজীবীর সওয়াল শুনে পর্যবেক্ষণ করেন যে, রাজ্যে সত্যিই ‘সাবস্টেনসিয়াল চেঞ্জ’ বা উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে। এর পরেই শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করে আদালত।

২০১৮ সালের সেই রক্তক্ষয়ী স্মৃতি

২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক কলঙ্কিত অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। মনোনয়ন পর্ব থেকেই শুরু হয়েছিল ব্যাপক সন্ত্রাস, বোমাবাজি ও খুনের ঘটনা। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ ছিল, তৎকালীন শাসক দল পরিকল্পিতভাবে বিরোধীদের মনোনয়ন জমা দিতে বাধা দিয়েছে এবং ভোট গ্রহণের দিন বুথ দখল ও ছাপ্পা ভোটের রাজত্ব চলেছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা সত্ত্বেও সেই হিংসা থামানো সম্ভব হয়নি। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সেই সময় বিরোধী দলগুলো আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই আইনি লড়াই এখন এক নতুন বাঁকে এসে দাঁড়িয়েছে, যার চূড়ান্ত ফয়সালা জুলাই মাসের শুনানিতে নির্ধারিত হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *