ভোট-হিংসা মামলায় নতুন মোড়? সীমান্তে দালাল চক্র ভাঙতে বড় পরিকল্পনায় পুলিশ

ভোট-হিংসা মামলায় নতুন মোড়? সীমান্তে দালাল চক্র ভাঙতে বড় পরিকল্পনায় পুলিশ

বদলে যাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক কঠোর হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। মঙ্গলবার নবান্ন থেকে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করে রাজ্যজুড়ে বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার, ভোট পরবর্তী হিংসা মামলার পুনর্তদন্ত এবং সীমান্ত সুরক্ষায় বাড়তি জোর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১৫ বছর পর রাজ্যে পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী শপথ নেওয়ার পরই নাগরিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এই প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হলো।

অস্ত্র উদ্ধার ও মালখানা পরিদর্শনে সময়সীমা নির্ধারণ

রাজ্য পুলিশের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি থানার মালখানায় থাকা বাজেয়াপ্ত অস্ত্র ও গুলির নথি যাচাইয়ের কাজ আগামী ১৫ মে-র মধ্যে শেষ করতে হবে। ওসি এবং আইসি-দের সশরীরে উপস্থিত থেকে এই হিসাব মেলানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর ১৬ মে থেকে এসডিপিও ও ডিএসপি পদমর্যাদার আধিকারিকরা সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। এছাড়া, আগামী দুই সপ্তাহ রাজ্যজুড়ে বেআইনি অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার প্রতিদিনের রিপোর্ট সরাসরি সিআইডির এডিজি-র কাছে পাঠাতে হবে।

ভোট পরবর্তী হিংসা মামলার পুনর্তদন্ত

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসার ঘটনাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে নতুন সরকার। যেসব মামলায় ইতিপূর্বে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো নতুন করে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে বা অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এফআইআর না হওয়া ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে নতুন করে মামলা রুজু ও গ্রেফতারির প্রক্রিয়া শুরু করতে বলা হয়েছে। পুলিশ সুপার ও কমিশনারদের ব্যক্তিগতভাবে এই পুরো প্রক্রিয়ার তদারকি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সীমান্ত সুরক্ষা ও অপরাধ দমনে কড়া অবস্থান

সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ-কে জমি দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্তের পাশাপাশি এবার বিএসএফ ও পুলিশের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সীমান্তে সক্রিয় দালাল চক্র ও দুষ্কৃতীদের দমনে নিয়মিত সমন্বয় বৈঠক করতে হবে। পাশাপাশি জেলাগুলোতে বেআইনি গরুর হাট ও অবৈধ খনন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। বৈধ ব্যবসায় তোলাবাজি বা কোনো ধরনের দাদাগিরি বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে নবান্ন। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আসার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ রোধে বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *