রাজ্যে প্রথম বিএনএস আইনে সাজা, মুর্শিদাবাদে ১২ জনের কারাদণ্ড

পশ্চিমবঙ্গে নতুন ফৌজদারি আইন ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ বা বিএনএস কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম কোনো মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে সাজা শোনাল আদালত। মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে অশান্তি সৃষ্টি এবং একজনকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগে ১২ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে এই নজিরবিহীন রায় দেওয়া হয়েছে। বুধবার জঙ্গিপুর দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারক শুভদীপ বিশ্বাস এই ১২ জনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও বিচারপ্রক্রিয়া
ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের এপ্রিল মাসে। একটি বিশেষ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ ও সুতি থানা এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ ওঠে, ১২ এপ্রিল সামশেরগঞ্জের জাফরাবাদ-পালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বলরাম পালের বাড়িতে একদল দুষ্কৃতী চড়াও হয়। তারা বলরাম বাবু ও তাঁর ছেলে রঞ্জিত পালকে ঘরের ভেতর আটকে রেখে পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে। ঘটনার তদন্তে নেমে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ দ্রুত চার্জশিট জমা দেওয়ায় অভিযুক্তদের কাউকেই জামিন দেওয়া হয়নি। বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকাকালীনই তাঁদের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
কঠোর সাজা ও ক্ষতিপূরণের নির্দেশ
আদালত এই মামলায় বিএনএস-এর ১০৯ (খুনের চেষ্টা), ১৯১(২) (দাঙ্গা লাগানো) সহ একাধিক ধারায় সাজা ঘোষণা করেছে। সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি নতুন আইন অনুযায়ী বিচারক নির্দেশ দিয়েছেন যে, প্রত্যেক দোষীকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ৬০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এছাড়া রাজ্য সরকারকেও ওই পরিবারকে ৩ লক্ষ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনি বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এবং জনমনে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এই রায়ের ফলে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রশাসনের অবস্থান আরও সুসংহত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।