বন্ধ হচ্ছে না কোনো সুবিধা, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে বড় ঘোষণা অগ্নিমিত্রার

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প বন্ধ হওয়া নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তাতে পূর্ণচ্ছেদ টানল নতুন রাজ্য সরকার। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন ক্যাবিনেটের প্রথম বৈঠকের পর স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, পূর্বতন সরকারের কোনো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পই বন্ধ করা হবে না। বরং লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের আদলে চালু হতে যাওয়া ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা আরও বিস্তৃত এবং স্বচ্ছ করার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রশাসন।
অনলাইনেই মিলবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা
এতদিন দুয়ারে সরকারের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিতে চাইছে সরকার। ক্যাবিনেট মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে করা হবে। পোর্টালে আবেদনের পদ্ধতি এতটাই সহজ রাখা হবে যাতে স্বল্পশিক্ষিত মহিলারাও অনায়াসেই নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারেন। সরকারের লক্ষ্য হলো ‘পেপারলেস’ অফিসের মাধ্যমে সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে (ডিবিটি) টাকা পৌঁছে দেওয়া।
কারা পাবেন এবং কাদের নাম বাদ যাবে
মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, যাঁরা ইতিপূর্বে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পেতেন, তাঁরা সকলেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আওতায় আসবেন। তবে অযোগ্য উপভোক্তাদের চিহ্নিত করতে বিশেষ স্ক্রুটিনি বা বিশ্লেষণ করা হবে। এক্ষেত্রে নাগরিকত্বের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। যদি কেউ ভারতের নাগরিক না হন কিংবা রোহিঙ্গা বা অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত হন, তবে তিনি এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।
তবে ভুলের কারণে বা অন্য কোনো জটিলতায় যাঁদের নাম বর্তমানে বাদ পড়েছে এবং যাঁরা নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন, তাঁদের জন্য আশার কথা শুনিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, ট্রাইব্যুনালে আবেদনকারীদের নাম এখনই তালিকা থেকে কাটা যাবে না। যথাযথ বিশ্লেষণের পর প্রকৃত নাগরিক হিসেবে প্রমাণিত হলে সকলেই এই আর্থিক সহায়তার অন্তর্ভুক্ত হবেন। মূলত সরকারি পরিষেবায় গতি আনা এবং প্রকৃত প্রাপকের কাছে সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই এই নতুন পদক্ষেপের প্রধান লক্ষ্য।