১৬৮ শিশুর রক্তঝরা স্মৃতি নিয়ে দিল্লিতে ইরানের বিদেশমন্ত্রী, যুদ্ধের আবহে বাড়ছে কূটনৈতিক উত্তাপ

১৬৮ শিশুর রক্তঝরা স্মৃতি নিয়ে দিল্লিতে ইরানের বিদেশমন্ত্রী, যুদ্ধের আবহে বাড়ছে কূটনৈতিক উত্তাপ

আমেরিকার সঙ্গে চরম উত্তেজনা আর যুদ্ধের রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির মাঝেই দুই দিনের সফরে ভারতে পা রাখলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি। বুধবার রাতে বিশেষ বিমানে তিনি নয়াদিল্লিতে পৌঁছান। উল্লেখ্য, আরাঘচি যে বিমানে ভারতে এসেছেন তার নাম রাখা হয়েছে ‘মিনাব ১৬৮’। মার্কিন হামলায় মিনাবের একটি স্কুলে প্রাণ হারানো ১৬৮ জন ছাত্রীর স্মৃতিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতেই তেহরানের এই প্রতীকী পদক্ষেপ। বিমানবন্দরে ইরানের বিদেশমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ভারতীয় বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

ব্রিকস সম্মেলনে তেহরানের লক্ষ্য

চলতি বছর ব্রিকসের সভাপতিত্ব করছে ভারত। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সভাপতিত্বে দিল্লিতে ব্রিকস দেশগুলোর বিদেশমন্ত্রীদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মূলত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিতেই আরাঘচির এই সফর। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকার সঙ্গে ইরানের বর্তমান সংঘর্ষবিরতি অত্যন্ত নড়বড়ে। এই পরিস্থিতিতে ব্রিকসের মতো শক্তিশালী মঞ্চকে ব্যবহার করে ওয়াশিংটনের ওপর কূটনৈতিক চাপ তৈরি করতে চায় তেহরান। বিশেষ করে যুদ্ধের বিরোধিতা করে ব্রিকস জোটের পক্ষ থেকে একটি যৌথ বার্তার প্রত্যাশা করছে ইরান।

হরমুজ প্রণালী ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সমীকরণ

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী নিয়ে জটিলতা এখনো কাটেনি। তবে যুদ্ধের আবহেও ভারতের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের মিত্রতা অটুট রয়েছে। তেহরানের বিশেষ অনুমতিতে ভারতীয় জাহাজগুলো এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের সুযোগ পাচ্ছে, যা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি। চীন ও রাশিয়ার পাশাপাশি ভারতকেও ইরান তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুর তালিকায় রেখেছে। আরাঘচির এই সফরের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুগুলো আরও গতি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক করিডোর সচল রাখার বিষয়ে ব্রিকস সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *