মমতার পাড়ায় শুভেন্দুর বিজয় মিছিল, বদলের বাংলায় একগুচ্ছ বড় ঘোষণা

১৫ বছর পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড়সড় পরিবর্তন এসেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের চার দিনের মাথায় নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুরে এক বিশাল বিজয় মিছিলে অংশ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিকেলে চেতলা হাট থেকে ক্যামাক স্ট্রিট পর্যন্ত আয়োজিত এই মিছিলে মানুষের ঢল নামে। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় শুভেন্দুর এই মিছিল রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
প্রশাসনিক তৎপরতা ও জনকল্যাণমুখী সিদ্ধান্ত
ক্ষমতায় আসার পরেই নবান্নে ৪১টি দপ্তরের সচিবদের নিয়ে মেগা বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা আনতে এবং জনভোগান্তি কমাতে একাধিক কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যজুড়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে অবিলম্বে সমস্ত অবৈধ টোল গেট ও ড্রপ গেট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব। পাশাপাশি তিলজলায় বেআইনি কারখানার বিরুদ্ধে ‘বুলডোজার’ অ্যাকশন শুরু করেছে নতুন সরকার। কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে সেখানে অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা চিংড়িঘাটা মেট্রোর কাজ আগামী শুক্রবার থেকে শুরু করার সবুজ সংকেত মিলেছে।
ভাতা বৃদ্ধি ও নতুন শিক্ষানীতি
সাধারণ মানুষের জন্য বড় ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতার পরিমাণ দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী জুন মাস থেকেই উপভোক্তারা এক হাজার টাকার পরিবর্তে দুই হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। অন্যদিকে, শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে স্কুলে প্রার্থনার সময় জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বুধবার থেকেই এই নিয়ম কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রধান শিক্ষকদের।
মিতব্যয়িতা ও কঠোর নিরাপত্তা
বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটের মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পথ অনুসরণ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও নিজের কনভয়ের সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এমনকি শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিজেপি বিধায়করা এদিন বাসে চড়ে বিধানসভায় আসেন। এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কড়া অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে ভোট পরবর্তী হিংসা দমনে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি ধর্মীয় ক্ষেত্রে লাউডস্পিকার ব্যবহার নিয়েও নতুন বিধিমালা তৈরির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সরকারের এসব পদক্ষেপ রাজ্যে এক নতুন প্রশাসনিক ধারার সূচনা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।