একশন মোডে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের রূপরেখা

শপথ গ্রহণের পর থেকেই প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার রাজ্যের সব দফতরের সচিবদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন তিনি। এই বৈঠকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো নিয়ে একগুচ্ছ যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং জনপরিষেবা দ্রুত পৌঁছে দিতে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি হস্তক্ষেপের পাশাপাশি অভিজ্ঞ বিধায়কদের বিভিন্ন দফতরের কাজের তদারকিতে যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবায় বিশেষ টাস্কফোর্স
রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে আগামী সোমবার থেকেই স্নাতক স্তরের ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনে শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তীব্র দাবদাহের কথা মাথায় রেখে স্কুলগুলোর গরমের ছুটি আরও ১৪ দিন বাড়িয়ে ১ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষা দফতরের কোনো নির্দিষ্ট মন্ত্রী না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ এই বিভাগের সচিবদের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ও বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্তকে। একইভাবে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মানোন্নয়নে ও প্রশাসনিক তদারকিতে যুক্ত করা হয়েছে চিকিৎসক-বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ও ইন্দ্রনীল খাঁ-কে। সরকারের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞদের মাধ্যমে দ্রুত জনসেবা নিশ্চিত করা।
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও পরিকাঠামো উন্নয়নে কঠোর বার্তা
মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জল জীবন মিশনের আওতায় ‘কল আছে কিন্তু জল নেই’—এমন পরিস্থিতি আর সহ্য করা হবে না। ক্ষুদ্র শিল্প দফতরে আটকে থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্পের প্রায় ২৫ লক্ষ আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে বিএসএফ-এর জমি হস্তান্তরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে। প্রশাসনিক কাজের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এখন থেকে সেন্ট্রাল ভিজিল্যান্স কমিশনের নির্দেশিকা মেনে সব ধরনের টেন্ডার ও দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
ভাতা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা
ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও বেশ কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মোয়াজ্জেম ভাতা প্রদানের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে বৃহস্পতিবার থেকেই তা সম্পূর্ণ অনলাইনে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়াও, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের কাজের গতি বাড়াতে রুদ্রনীল ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী ও হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের মতো সাংস্কৃতিক জগতের ব্যক্তিত্ব তথা বিধায়কদের সংশ্লিষ্ট বিভাগে যুক্ত করার কথা জানানো হয়েছে। রাজ্যের নিজস্ব আয় বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই তিনি নিজে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য দফতরে গিয়ে সচিবদের সঙ্গে পৃথকভাবে পর্যালোচনা বৈঠকে বসবেন।